ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে চ্যান্সারি ভবনে গতকাল যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ‘গণহত্যাদিবস’ পালন করা হয়। দিনটি স্মরণ করে বিশেষপ্রার্থনা, এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া শোকপ্রকাশ, রাষ্ট্রপতির বাণীপাঠ, প্রধানমন্ত্রীর বাণীপাঠ, বিশেষ আলোচনা সভা এবং একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ বলেন, পাকিস্তানী হানাদার বাহিণী এবং তাদের দেসরদের দ্বারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গনহত্যা বিশ্বের নৃশংস ও নারকীয় গনহত্যাগুলোর অন্যতম।
তিনি বলেন ২৫ মার্চের কালরাত্রে পাকিস্থানী বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালীদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা করা হয় হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে। সেইরাত থেকে পরবর্তী নয় মাস বাংলাদেশে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানী বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলসামস, আলবদর বাহিনীর সদস্যরা সারা দেশে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালায়। হত্যা করা হয় ৩০ লক্ষমানুষকে, সম্ভ্রমহানি করা হয় ২ লক্ষ মা বোনের। লক্ষ লক্ষ বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। বাড়ীঘর থেকে বিতাড়িত করা হয় প্রায় এক কোটি মানুষকে।
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে মহান ২৫ মার্চ-এর গণহত্যার স্বীকার শহীদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন। তিনি তার বক্তব্যে জানান যে, কালোরাত্রি ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিলাভের জন্য বাংলাদেশ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এ প্রসংঙ্গে তিনি তার বক্তব্যে ২৫ মার্চ গনহত্যায় হানাদার বাহিণীর নিশংসতারচিত্রতুলে ধরেন। তিনি ইতিহাসের বর্বরতম এ দিনটিতে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপর সশ্রস্ত্র আক্রমণের নিন্দা জানান।
আলোচনা অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশী এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে গণহত্যার উপর একটি বিশেষ প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
ইত্তেফাক/কেআই
