অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে গণহত্যা দিবস পালিত

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৮, ১৯:৪২
কানাডায় বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ঐতিহাসিক গণহত্যা দিবস উদযাপিত হয়। এই উপলক্ষে হাইকমিশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজানুর রহমান।
 
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ ২৫শে মার্চের কালরাত্রিতে গণহত্যার শিকার সকল শহীদ এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান হাই কমিশনের মিনিস্টার নাইম উদ্দিন আহমেদ ও কাউন্সিলর জনাব সাখাওায়াত হোসেন। এরপর ২৫শে মার্চের ভয়াল কালরাতের গণহত্যার উপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
 
১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চের নৃশংসতম গণহত্যার উপর একটি মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় যাতে অংশগ্রহণ করে কানাডায় বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন সিকদার মতিউর রাহমান, শাহেদ বখত, মনজুর চৌধুরী, কবির চৌধুরী, হারুন উর রশিদ, নীপা ব্যানারজী, শাহ্‌ বাহাউদ্দিন, সাইদ ইসলাম, মমতা দত্ত, শিশির প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ২৫ শে মার্চের বর্বরতম গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সম্পর্কিত প্রবন্ধ পাঠ করেন হাইকমিশনের কাউন্সিলর ফারহানা আহমেদ চৌধুরী।
 
সমাপনী বক্তব্যে হাইকমিশনার মিজানুর রহমান গভীর শ্রদ্ধাদভরে স্মরন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ মুক্তিযুদ্ধে আত্ম উৎসর্গকারী বীর শহীদ এবং বীরঙ্গনাদের যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আজকের এই স্বাধীনতা এবং তিনি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
 
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের গভীর রাতের গণহত্যা এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্থানের কারাগারে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে পাকিস্থানী শোষক গোষ্ঠী ভেবেছিল যে তারা বাঙ্গালির স্বাধীনতার আন্দোলনকে রুখে দিতে পারবে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি এবং বিচক্ষণতার কারনে তাদের সেই চক্রান্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। কেননা গ্রেপ্তারের পূর্বেই ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীণতার ঘোষণা দিয়ে যান। বঙ্গবন্ধুর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের আপামর জনসাধারন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। তিনি ২৫শে মার্চের কালরাতের গণহত্যা এবং বাংলাদেশের স্বাধীণতার ঘোষণার এই সঠিক ইতিহাস কানাডায় বসবাসরত নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার অনুরোধ করেন এবং সকলকে এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যেতে বলেন।
 
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশের সার্বিক মঙ্গল কামনায় দোয়া পাঠ করেন হাই কমিশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাইকমিশনের প্রথম সচিব অপর্ণা পাল।
 
ইত্তেফাক/রেজা