সৌদি আরব এসে ভাগ্য বিরম্বনার শিকার হয়ে রিয়াদের সোলাইয়ে ৫৬ জন ও আল-জউফ মরুভুমি অঞ্চলে ৪৩ জন বাংলাদেশি শ্রমিক মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
রিয়াদে বাংলাদেশ থেকে ২২ দিন আগে আসা রাসেদুল হক জানান, সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাচঁ লাখ টাকা দিয়ে সৌদি আরব এসে কাজতো দুরের কথা সামান্য খাবার আর মাথা গুজার ঠাই পাচ্ছেন না। তার অভিযোগ, তার সঙ্গে আসা সাতজনসহ আগে আসা ৫৬ জনকে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ দেয়নি কোম্পানি। কাজ না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে শ্রমিকদের জানানো হয় বাংলাদেশ থেকে তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। তারা বাহিরে কাজ করার শর্তে (ফ্রি ভিসায়) এসেছেন। ভয়ে তারা বাহিরে কাজ করা যাচ্ছে না।
খাবার এবং কাজ দেয়ার কথা বলায় তাদেরকে মার-ধর করে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে বলেও জানান আরেক ভুক্তভোগী সাইফুল। ড্রাইভার আর ক্লিনার ভিসা নিয়ে আসা এই শ্রমিকরা বর্তমানে মসজিদের বারান্দায় আর রাস্তার ফুটপাতে দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, কোমপানির দালাল তাদের পাসপোর্টটিও কেড়ে নিয়েছে। পাসপোর্ট আর ইকামা না থাকায় আইনের চোখে তারা অবৈধ। গ্রেফতার আতংকে রাস্তায় দিন কাটাচ্ছে এই বাংলাদেশিরা। ভোক্তভোগী এই প্রবাসীরা তাদের এই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করতে দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেন, ভোক্তভোগী বাংলাদেশীদের সহায়তায় দূতাবাস শিগগিরই ব্যবস্থ নিচ্ছে । দূতাবাস টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনগত সহযোগিতা ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ নিবে।
IMG0
অভিযুক্ত এজেন্সিগুলো হলো বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, এএমডিএ গ্লোবাল সার্ভিস, রফিক অ্যান্ড সন্স ইন্টারন্যাশনাল লি., এক্সিলেন্ট ড্রিম ওভারসিজ, আহমাদ আল আমীন লি. মেসার্স এম হামিদ অ্যান্ড সন্স এবং অপরাজিতা ওভারসিজ লি.। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
এ দিকে সৌদি আরবের আল-জউফ মরুভুমি অঞ্চলে ৪৩ বাংলাদেশি শ্রমিক মানবেতর জীবন করছে। ভোক্তভোগী কয়েকজন শ্রমিক জানান, পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা দিয়ে রাজ ওভারসিজ নামের এজেন্সির মাধ্যমে হোটেল ভিসায় সৌদি আরব এসে হোটেল ভিসার কাজ না দিয়ে প্রতারণা করে ভিন্ন একটি সাপ্লাই কোম্পানির কাছে তাদেরকে বিক্রি করে দেয়। কোম্পানি মরুভুমিতে মুরগির ফার্মে তাদের কাজ দেয়। তবে ছয় মাস পর্যন্ত কোনো বেতন ভাতা দেয়নি কোম্পানি। খাবার এবং কাজ দেয়ার কথা বলায় তাদেরকে মারধর করে বলেও জানান তারা।
হোটেলের আর ক্লিনার ভিসা নিয়ে আসা এই শ্রমিকরা বর্তমানে মরুভুমিতে অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কেড়ে নেয়া হয়েছে পাসপোর্টও। পাসপোর্ট আর ইকামা না থাকায় গ্রেফতার আতংকে রয়েছেন।
