খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তৃতীয় সমাবর্তন বুধবার বিকাল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সমাবর্তনে ২ হাজার ৭৯৫ জন স্নাতক ও ২২৮ জন স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ তুলে দেয়া হবে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ। এছাড়া সমাবর্তন বক্তা হিসাবে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আসগর ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান। আজ সোমবার সকালে কুয়েট অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে কুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর এ তথ্য জানান।
ভিসি বলেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সভাপতি রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো.আবদুল হামিদ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২ হাজার ৬৫৭জন, বিইউআরপি’র ১৩৮জন, এমএসসির ৬৯জন, এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১০৩জন, এমফিল ৪৮জন ও ৮জনকে পিএইচডি ডিগ্রির সদন প্রদান করবেন। একই সঙ্গে স্মাতক পর্যায়ে ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে ৩৮জন কৃতী গ্র্যাজুয়েটকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক’ দেয়া হবে।
ভিসি বলেন, আজ থেকে চুয়াল্লিশ বছর আগে ১৯৭৪ সালের ৩ জুন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর বিশেষ নির্দেশনায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযক্তির ক্ষেত্রে অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেশে-বিদেশে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে। এ পর্যন্ত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৬ হাজার ৬৮৩জনকে ডিগ্রি সনদ প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সারাবিশ্বে আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসাবে মাথা উঁচু করে চলার লক্ষ্য অর্জনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ দিন যাবৎ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাত্র তিনটি বিভাগ, ১২০ জন স্নাতক ছাত্র ও ১ জন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই বিদ্যাপীঠে এখন ১৮টি বিভাগ, ৩টি ইনস্টিটিউট, ৪ হাজার ৬৩৫ জন স্নাতক ও ১ হাজার ৭৩ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে ৮৯৩ জন ছাত্রী। নির্মিত হচ্ছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম ‘আইটি ইনকিউবিশন ও ট্রেনিং সেন্টার’।
ভিসি বলেন, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটি একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে স্নাতক পর্যায়ে সকল বিষয়বস্তুর সমন্বয় ঘটেছে। এখানে যেমন রয়েছে সনাতনী বিষয়বস্তু সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, আরবান প্লানিং ও আর্কিটেকচার। তেমনি রয়েছে যুগোপযোগী বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কন্সট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, এনার্জি সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়ালস্ সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং; রয়েছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং। বর্তমান যুগের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কথা বিবেচনায় এনে খুব শিগগির আরো ৪টি নতুন বিভাগ চালু করা হবে; যার মধ্যে ওসেনোগ্রাফি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এরোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও গ্রাজুয়েটবৃন্দের বিচরণ ক্ষেত্র হবে নীলাভ সমুদ্রের তলদেশ থেকে সুনীল আকাশ পর্যন্ত। এজন্য প্রয়োজন আরো আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ জনবল, বিশ্বমানের গবেষণা ও উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উন্নত জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাঝে চমৎকার সেতুবন্ধন তৈরি করা। এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প এখন পরিকল্পনা কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. কাজী হামিদুল বারী, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুর রফিক, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মিহির রঞ্জন হালদার, পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. সোবহান মিয়া ও রেজিস্ট্রার জি এম শহিদুল আলম।
ইত্তেফাক/কেআই
