কচুয়ায় প্রাইমারি স্কুলের পাঠদান ইউপি ভবনে!

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৮, ০২:০৬


কচুয়ার ১১০নং মাঝিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় তিন বছর ধরে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এতে একদিকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত ও অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

১৯৭৮ সালে ১১০নং মাঝিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক ও প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ২০১৫ সালে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্রের অভাবে শিক্ষার্থীদের প্রথমত বিদ্যালয়ের সামনে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান শুরু হয়। পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান ইসহাক সিকদারের সহায়তা নিয়ে বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে ইউপি ভবনের (৩নং বিতারা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন) দ্বিতীয় তলার তিনটি রুমে পাঠদান চলছে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে পঞ্চম শ্রেণির বিশেষ ক্লাস চালু হওয়ায় একই সময় চারটি শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ প্রয়োজন মিটাতে বিকল্প কোনো পথ খুঁজে না পেয়ে ইউপি ভবনের বারান্দায় বাধ্য হয়ে প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। ১৯৯৩-৯৪ অর্থ-বত্সরে পিডিইপি ২-এর আওতায় ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে উক্ত বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ১৫/১৬ বছর যেতে না যেতেই ভবনে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে।

জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত এই ভবনটি সাবেক স্ব-রাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরসহ চাঁদপুর জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও কচুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার গত এক বছরের মধ্যে সরেজমিনে এসে পরিদর্শন করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান ইসহাক সিকদার জানান, জনস্বার্থে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের বিষয়টি বিবেচনা করে আমাদের ইউপি ভবনের দ্বিতীয় তলায় রুম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিবেচনা আর কতদিন করা যাবে। বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ অতীব জরুরি।

কচুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ মো. ইকবাল মনসুর জানান, ইতিমধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা করে ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। অচিরেই গুরুত্ব অনুসারে বিদ্যালয়গুলোর ভবন নির্মাণ শুরু হবে।

ইত্তেফাক/নূহু