নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে বাবা আনিছুর রহমানকে (৫৮) হত্যা করেছে তার ছেলে আব্দুল হাই লিটন (২৮)। হত্যার ৯দিনপর অর্ধ গলিত অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নিহতের মৃতদেহ ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যার ঘটনায় ছেলে আব্দুল হাই লিটনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত আনিছুর রহমান কীটনাশক ও বীজ ব্যবসায়ী ছিলেন এবং উপজেলার পাচুপুর ইউনিয়নের জয়নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ আনিছুর রহমানের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা চায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক ছেলে লিটন। লিটনের চাওয়াকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করেন আনিছুর রহমান। এ নিয়ে বাপ-ছেলের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। বিকেলে আনিছুর রহমানের স্ত্রী হাবিবা বেগম লিপি তার বাবার বাড়ি চলে যান। বাড়িতে কেই না থাকার সুযোগে ওই দিন রাত ৮টার দিকে আনিছুর রহমানকে লোহার রড় দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর আনিছুর রহমানকে বাড়ির দক্ষিণ পাশে একটি ডোবায় কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে রাখে।
পরদিন লিটন বাড়ি থেকে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায়। ২৯ মার্চ আনিছুর রহমানের স্ত্রী হাবিবা লিপি বাড়ি ফিরে এসে আনিছুর রহমানকে না পেয়ে সম্ভব্য সব স্থানে না পাওয়ায় ২ এপ্রিল আত্রাই থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) দায়ের করেন। আনিছুর রহমানকে হত্যার পর ছেলে লিটনও পলাতক ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে লিটন গ্রামে ফিরে এলে গ্রামবাসী তাকে আটক করে। এরপর লিটনের সাথে কথাপোকথনে সন্দেহ দেখা দিলে তাকে আটক করে থানায় সংবাদ দেয়। এরপর পুলিশের গ্রামে এসে লিটনকে জিজ্ঞাসাবাদের তার বাবাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে।
আত্রাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসএই) উত্তম কুমার জানান, লিটনের দেয়া তথ্যে মতে ডুবা থেকে দুপুরে নিহতের অর্ধ গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ছেলে লিটনকে আটক করা হয়েছে। আত্রাই থানার ওসি মোবারক হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ নওগাঁ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
