নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে অনুসারীদের দিয়ে প্রকাশ্যে যুগান্তর প্রতিনিধির চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের পর এবার মামলা করেছে শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। একই সঙ্গে স্থানীয় আরো দুইটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল মোহসীনের আদালতে এসব মামলা দায়ের করা হয়।
এরমধ্যে দৈনিক যুগান্তরের ফতুল্লা প্রতিনিধি আলামিন প্রধানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ইত্তেফাকের নারায়ণগঞ্জ স্টাফ রিপোর্টার ও স্থানীয় দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি স্থানীয় দৈনিক সময়নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকাসহ ২০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগ এনে ৩টি ও আলামিন প্রধানের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় আরো একটিসহ ৪টি মামলা দায়ের করেছে। আগামী ২১ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে ৫৭ ধারা মামলার আর্জি করা হলেও আদালত প্রতিবেদন জমা দিতে সংশ্লিষ্ট ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদী কাউসার আহমেদ পলাশ বলেন, আমি যুগান্তরে আমার আইনজীবীর মাধ্যমে ইমেইলে লিগ্যাল নোটিশ ও প্রতিবাদ পাঠিয়েছি কিন্তু তারা তাতে ডোন্ট কেয়ার দেখিয়েছে এ জন্য আমি আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছি।
পলাশের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকারিয়া জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি খ অঞ্চল) আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল মোহসিন মিয়ার আদালতে মামলা গ্রহণের আবেদন করা হয়। এর মধ্যে তিনটি মামলা আদালত গ্রহণ করেছেন। আর আইসিটি আইনের মামলাটির তদন্ত করতে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাকের নারায়ণগঞ্জ স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক ডান্ডিবার্তার সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদল বলেন, একজন সাংবাদিক সংবাদ করতেই পারে। যদি সংবাদটি পড়ে কেউ মনক্ষুন্ন হয় তাহলে প্রতিবাদ দিতে পারে। সেটা না করে সাংবাদিকের হাত পা ভেঙ্গে ফেলবে আবার চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে যে নারায়ণগঞ্জে যে সংস্কৃতি পলাশ চালু করলো এটা স্বাধীনতার পরে দেখা যায়নি। বর্তমান সরকার মিডিয়া বান্ধব সরকার। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত ভাবে মিডিয়ার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সেখানে পলাশ যা করছে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সকল পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।
সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েল জানান, এসব হয়রানিমূলক মামলা যার কোন ভিত্তি নাই। মামলার আর্জিতে এটাই স্পষ্ট হয়েছে ‘ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাই না’। যুগান্তরের ফতুল্লা প্রতিনিধি আলামিন প্রধান জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা হলেও এর আগের দিন বুধবার পলাশের অনুসারীরা সড়ক বন্ধ করে আমার বিরুদ্ধে মিছিল করে। মিছিল থেকে আমার চামড়া তুলে নেয়া সহ হাত পা গুড়িয়ে দেয়ার প্রকাশ্য হুমকি দেয়। এ ঘটনায় আমি জিডিও করেছি। এরপর থেকে পলাশের অনুসারীরা আমার পেছনে ছায়ার মতো লেগে রয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
