মুন্সীগঞ্জে একই স্থানে দু'দলের সভা থাকায় ১৪৪ ধারা জারি

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৮, ১০:২৭
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বালিগাঁও নয়াগাঁও বালুর মাঠে একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীসভা আহ্বান করায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। আজ শনিবার ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য সকল সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
 
টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. হাসিনা বেগম গতকাল শুক্রবার রাতে এই আদেশ দেয়ার পর থেকেই এলাকায় মাইকিং শুরু হয়েছে। ইউএনও জানান, বালিগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর হোসেন চঞ্চল স্বাক্ষরিত এক পত্রে উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি রোধ এবং শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
 
টঙ্গীবাড়ি থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান জানান, আওয়ামী লীগ টঙ্গীবাড়ি প্রশাসনের কাছে এই সভার কর্মসূচী অবহিত করে। অন্যদিকে জেলা বিএনপি জেলা প্রশাসকের কাছে এই কর্মীসভার জন্য ৪ এপ্রিল আবেদন করে।
 
এই বিষয়ে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ বারেক বলেন, আরও ১০ দিন আগে এই বালিগাঁও ইউপি আওয়ামী লীগের কর্মীসভা আহ্বান করে প্রশাসনকে অবহিত করাসহ সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের দাওয়াত করা হয়। এই কর্মী সভার বিষয়ে মাইকিংও চলছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের এই কর্মীসভাকে বিঘ্নিত করার জন্য বিএনপি হঠাৎ করে একই দিনে একই জায়গায় কর্মীসভা আহ্বান করেছে। আয়োজনের আগ মুহূর্তে গতকাল শুক্রবার থানা থেকে ওসি ফোন করে সেখানে কর্মীসভা না করার অনুরোধ জানান। পরে তাৎক্ষনিক দায়িত্বশীল নেতাদের সাথে কথা বলে শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে রাতেই কর্মীসভাটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবার এই কর্মীসভার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে কর্মীসভা আয়োজনের অংশ হিসাবেই এই কর্মীসভা আহ্বান করা হয়েছিল।
 
অন্যদিকে জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক ও এই কর্মী সভার জন্য প্রশাসনের কাছে করা আবেদনকারী আব্দুল আজিম স্বপন জানান, প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির ঘটনায় শান্তি শৃঙ্খলার স্বার্থে বিএনপির কর্মী সভা স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটা ঠিক কাজ হয়নি। গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে অগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কর্মী সভার আহ্বান করে যথা সময়ে প্রশাসনকে অবগত করা এবং অনুমতি প্রার্থনা করা হয়েছে। এমনকি অনুষ্ঠানস্থলে প্যান্ডেলও তৈরি করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে এই সভাটি আহ্বান করা হয়। এই কর্মী সভায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি থাকার কথা ছিল দলের যথাক্রমে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহম্মেদ এবং বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন। কিন্তু রাতে বালিগাঁও ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এবং টঙ্গীবাড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন দোলন ফোন করে জানিয়েছেন, তার বাড়িতে পুলিশ গিয়ে ১৪৪ ধারার খরব জানিয়ে সভা না করার পরামর্শ দিয়েছে।
 
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামারুজ্জামান রতন বলেন, 'জেলা বিএনপির সভাটি আয়োজনের প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। লিখিত অনুমতি না পেলেও সকল মৌখিক অনুমিত নেওয়া হয়েছিল। এত জায়গা থাকতেও আমাদের সভাস্থলে এলাকায় কেন এমনটি করলে, ভাবতে অবাক লাগে।'
 
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সায়লা ফারজানা রাতে জানান, গত বুধবার সন্ধ্যা বিএনপি এই কর্মীসভার জন্য আবেদন করে। প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবেই এটি পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আবেদনটি পেন্ডিং রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এসএস