হোমনায় মিষ্টি জিরা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:০৭
হোমনা উপজেলায় মিষ্টি জিরা চাষ হচ্ছে ব্যাপকভাবে। এবার উপজেলায় কৃষকরা এ জিরা চাষ করছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। মিষ্টি জিরার চাহিদাও বাড়ছে এলকায়। 
 
এ প্রসঙ্গে উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের চাষী মুর্শিদ মিয়া জানান, গত তিন মাস আগে আমিসহ গ্রামের আরো ৮/১০ জন চাষী অন্যান্য ফসলের মতো জমিতে জিরার বীজ বপণ করি। সেই জিরাগুলো থেকে চারা গজিয়ে আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে।  এক পর্যায়ে ৩০ থেকে ৩৬ ইঞ্চি লম্বা গাছগুলো ফুলে ফুলে ভরে যায়। জিরাগাছের পাতা চিকন ও এক থেকে দেড় সেন্টিমিটার লম্বা জিরা গাছের ফুলগুলো দানা বেঁধে পাকার পর গত সোমবার দুই শতক জমির গাছ উঠিয়ে রোদে শুকাতে দেই। তারপর ঝেড়ে গাছ থেকে জিরাগুলো আলাদা করি। আমার দুই শতাংশ জমি থেকে ৫/৬ কেজি জিরার ফলন পেয়েছি। 
 
রামনগর গ্রামের জিরা চাষী আবদুল করিম জানান, আমার ৮ শতাংশ জমির জিরা গাছগুলো দানা বেঁধে পাকতে শুরু করেছে, কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো তোলা হবে। 
 
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের জিরা চাষীরা জানান, দৌলতপুর গ্রামের কৃষক আলমগীরের কাছ থেকে তারা জিরার বীজ সংগ্রহ করে তা জমিতে বপণ করেন। জিরার বীজ বিক্রেতা মো. আলমগীর জানান, তাঁর ছোট ভাই মো. আবুল হোসেন ১৪ বছর ধরে সৌদি আরবে থাকেন। সেখানে নড়াইলের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় আবুলের। নড়াইলের ওই ব্যক্তির এক ভাই ইরান প্রবাসী। ইরান প্রবাসী ওই ব্যক্তি ইরান থেকে বপণ করার উদ্দেশ্যে কিছু জিরা দেশে নিয়ে আসেন। তাঁর কাছ থেকে আধা কেজি জিরা এনেছেন আলমগীর। সেই জিরা থেকে প্রায় আড়াই’শ গ্রাম জিরা ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ৯ শতক জমিতে চাষ করেন আলমগীর। 
IMG0
তিনি বলেন, আমাদের জমিতে জিরা হবে, তা কখনো কল্পনা করতে পারিনি। সাধারণ ফসলের মতোই জমিতে জিরা চাষ করেছিলাম। তখন ৯ শতক জমিতে জিরা চাষে ১৫ কেজি সার এবং আগাছা পরিষ্কার বাবদ কিছু খরচ হয়েছে। প্রতিটি গাছে জিরাও ধরেছিল প্রচুর এবং ভাল ফলন হয়েছে। তারপর খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা এসে আমার কাছ থেকে জিরার বীজ কিনে নেন। তবে কখন চাষ করতে হবে, সেই মৌসুম সম্পর্কে আমাদের জানা ছিল না। আমার জমিতে জিরা চাষ হয়েছে শুনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুলফিকার আলী এসে আমাকে নানা পরামর্শ দিয়েছিলেন। 
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, গত বছর দৌলতপুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেনের জমিতে যে জিরার চাষ হয়েছে তা প্রকৃত জিরা নয়। এটির প্রকৃত নাম শলুক (মিষ্টি জিরা) যা জিরার সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা যাবে। জিরার বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। তিনি আরো জানান, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে শুধু কৃষক আলমগীরের ৯ শতাংশ জমিতেই জিরা চাষ হয়েছিল। এবার উপজেলার দৌলতপুর, রামনগর, রামকৃষ্ণপুর, শ্রীপুর, কাশিপুরসহ অন্যান্য এলাকার জমিতেও কৃষকরা প্রচুর পরিমাণে এ জিরার চাষ করেছেন। জিরার ফলনও ভাল হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এমআই