রথিশ হত্যা: মামলা আরো জটিল আকার ধারণ করছে

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:২২
রংপুরের বিশেষ আদালতের পিপি আওয়ামী লীগ নেতা রথিশ চন্দ্র ভৌমক বাবু সোনার হত্যা রহস্য দিন দিন আরো জটিল আকার ধারণ করছে। হত্যা মামলার সুরাতহাল রিপোর্ট, জব্দ তালিকা কিংবা আসামিদের ১৬৪ জবানবন্দী সম্পর্কে এখনো কোন কিছু জানা যাচ্ছে না।
 
মামলার আসামি ৫জন হলেও এখন পর্যন্ত ১৯জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২জনকে জড়িত না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এদের একজন রথিশের মেয়ে অরিত্রি অন্যজন তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মতিউর রহমান।
 
লাশ উদ্ধারের আগে বাবু সোনা নিখোঁজ মামলায় ৯জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ওই ৯জন কোথায় তার কোন হদিস নেই। বাবু সোনার হত্যারহস্য কোন সঠিক নির্দেশনা এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক ডা. কপিল উদ্দিনের ভাষ্যমতে মৃত বাবু সোনর শরীর বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বাবু সোনর ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক ভাইয়ের কাদা মাটিতে মুখ ঢাকা থাকায় পায়ের জুতা মোজা দেখে লাশ শনাক্ত করেছেন। পুলিশের জব্দ তালিকায় বাড়ির পেছনে বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার করা বাবু সোনার রক্ত মাখা শার্ট উদ্ধার দেখানো হয়েছে। রক্ত মাখা এ শার্টের রহস্য কি।
 
র‌্যাবের দেয়া তথ্যমতে, ১০টি ঘুমের বড়ি দুধের সাথে মিশিয়ে খাওনোর পর অচেতন করে গলায় ওড়ানা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে রথিশকে হত্যা করা হয়েছে। শ্বাসরোধে হত্যা করা হলে রক্তমাখা শার্ট শরীরে আঘাতের চিহ্ন এলো কোথা থেকে। এ ধরণের নানা প্রশ্ন এখন রথিশের পরিবার ও নগরবাসীর মুখে মুখে। একটি মহল এসকল প্রশ্ন আড়াল করে শুধু পরকীয়া প্রেমের গল্প প্রচার করছে। ফলে মামলার মূলঘটনা এখনো জনসম্মুখে প্রকাশ হচ্ছে না।
 
তার পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি ঢাকা পড়ে আছে। জানা গেছে, রথিশের পৈত্রিকা ভিটার সামনের অংশে বহুতল ভবনের ভিত্তি দিলে পরিবারের পক্ষ থেকে চরম বাধা আসে যার ফলে তিনি ঐ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পরে দুদুকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। বাবু সোনার বিরুদ্ধে কাউনিয়া উপজেলার ভুতছড়া মৌজায় প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যে ভূসম্পদ সংক্রন্ত জটিলতার এবং দ্বন্দ্ব রয়েছে বলেও বিভিন্ন মুখে নানা কথা শোনা যাচ্ছে।
 
শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত তাজহাট মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা ছালেকের পরিবারকে কোতোয়ালি থানার গেটে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। বাবুসোনার মোবাইল কললিস্ট অনুসারে ছালেককে গ্রেফতার করা হয় ৩০ মার্চ রাতে। ৩০ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ছালেক কোতোয়ালি থানায় আটক ছিলেন। মামালায় তিনি কোন আসামি নন-কিভাবে পুলিশ আইন ভঙ্গ করে তাকে থানায় আটকে রাখেছে বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলামীনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ছালেক নামে কোন আসামি এ মামলায় নেই। তাকে গ্রেফতারের কোন খবর আমার জানা নেই। থানার দালাল ও পুলিশ সোর্সদের সাথে ছালেককে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে পরিবারের লোকদের সাথে দরদাম হাঁকতে শোনা যায়। ওসি বাবুলের রেফারেন্সে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হলে ছালেকের পরিবার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত রাজি হয়। এতে পুলিশ পক্ষ রাজি না হওয়ায় ছালেক শুক্রবার রাতে মুক্তি পান নি। আদালতের নির্দেশ ব্যতিত কোন ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি পুলিশ হেফাজতে না রাখার সুনির্দিষ্ট বিধান থাকলেও পুলিশ তা অবজ্ঞা করে ৩০ মার্চ থেকে ছালেককে আটক রেখেছে। এ ভাবেই ১৯জনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। তারমধ্যে লাশ উদ্ধারের আগে ৯জন ও পরে ১০জন। এদের কতজন থানায় আটক আছে তা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি