শিরোপা থেকে মাত্র একটি জয় দূরে দাঁড়িয়ে গত রাতে ইংলিশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ম্যানইউ’র মুখোমুখি হয়েছিলো সিটি। ডার্বিতেই শিরোপা জয়ের উৎসবে মাততে ম্যাচের প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে আয়োজন সেরেও রেখেছিলো সিটি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল আদায় করে নিয়ে সিটির স্বপ্ন চুরমার করে ৩-২ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় ইউনাইটেড। এই হারে শিরোপা জয়ের অপেক্ষা বাড়লো সিটির। তবে ৩২ ম্যাচে ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই থাকলো সিটি। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে ইউনাইটেড।
জিতলেই তৃতীয়বারের মতো লিগের শিরোপা জয়, এমন সমীকরণে নিজেদের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে খেলতে নেমেছিলো সিটি। শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে থাকলেও প্রথম গোলের স্বাদ নেয় তারাই। ২৫ মিনিটে সেন্ট্রার ব্যাক ভিনসেন্ট কোম্পানির গোলে ম্যাচে প্রথমবারের মত লিড নেয় সিটি। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতে আবারো গোলের দেখা পায় সিটি। এবার গোল করেন মিডফিল্ডার ইলকে গুন্ডোগান। ফলে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় সিটি। এই স্কোরেই ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ করে তারা।
কিন্তু সিটির জন্য যে দ্বিতীয়ার্ধে দুঃস্বপ্ন অপেক্ষা করছে তাই-বা কে জানতো। সেটি বুঝিয়ে দিতে মোটেও সময়ক্ষেপণ করেনি ইউনাইটেড। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের ৫৩ ও ৫৫ মিনিটে ফরাসি স্ট্রাইকার পল পগবার দুই গোল থেকে সমতায় ফেরে ইউনাইটেড। এতে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে। ৬৯ মিনিটে ম্যাচে নিজেদের তৃতীয় গোলের দেখা পায় ইউনাইটেডই। শেষ পর্যন্ত এই গোলেই জয়ের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ে হোসে মরিনহোর দল।
তাই ম্যাচ শেষে হতাশা ঝড়েছে সিটির কোচ পেপ গার্দিওয়ালার কন্ঠে, ‘ভালো অবস্থায় থেকেও এভাবে ম্যাচ হারা দুঃখজনক। এর মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধেই তিন গোল হজম করেছি আমরা। এটি মেনে নেয়াও কঠিন। কারণ, আমরা লিগে সবচেয়ে কম গোল হজম করা দল। ইউনাইটেড চারটি সুযোগ সৃষ্টি করে তিনটিই কাজে লাগিয়েছে। আমরা কয়টা সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছিলাম? তাদের চেয়ে অনেক বেশি। সুযোগ পেলেই তো হয় না, সেগুলো কাজে লাগাতে হয়। আমরা তা পারিনি। তাই রাতটি দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে রইল।’
পিছিয়ে পড়ে দল দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোয় খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেছেন ইউনাইটেডের কোচ হোসে মরিনহো। তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় ম্যাচ জয় করা মোটেও সহজ নয়। অবশ্য আমাদের ওপর কোন চাপ ছিলো না। চাপের মধ্যে ছিলো সিটি। ম্যাচ ও শিরোপা জয়ের চিন্তায় ছিলো তারা। তারপরও তারা ভালো খেলেছে। আমার দলের খেলোয়াড়দের বাহ-বা দিতেই হবে। এভাবে ম্যাচ জয় সত্যিই প্রশংসনীয়।’
ইত্তেফাক/কেআই
