খুলনায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে গোলাম মওলা (৪৫) নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নিহত এবং নারীসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে তেরখাদা উপজেলার আটালিয়া গ্রামের খামার বিল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে লিপি বেগমকে (৪৫) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সোহেল শেখ (২৫), সাবিনা ইয়াসমিন (৪০) ও নিহত গোলাম মওলার মেঝ ছেলে খালিদ শেখসহ (২৫) বাকিদের তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহত গোলাম মওলা তেরখাদা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মওলা ও কৃষক লীগ নেতা ঝিলু মিয়া মুন্সীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ইতিমধ্যে দু'গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে দু'গ্রুপের মধ্যে একাধিক পাল্টাপাল্টি মামলা রয়েছে।
আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে আটালিয়া গ্রামের খামার বিল এলাকায় কৃষকলীগ নেতা ঝিলু মিয়া মুন্সী ও গোলাম মওলার মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তাদের সমর্থকদের মধ্যে ঢাল-সড়কি, বল্লম ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রাঘাতে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মওলা নিহত হন।
নিহত গোলাম মওলার ছেলে খালিদ শেখ বলেন, 'কৃষকলীগ নেতা ঝিলু মিয়া মুন্সী ও আমার বাবার মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিলো। আজ সকালে ঝিলু মুন্সী রামদাসহ ধারালো অস্ত্রদিয়ে তার লোকজন নিয়ে আমার বাবাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে তেরখাদা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।'
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেকুজ্জামান ইউপি সদস্য গোলাম মওলার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনা পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ইত্তেফাক/এসএস
