বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী অঞ্চল উখিয়ায় আসন্ন বর্ষায় ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, জড়ো হাওয়াসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ঝুকিপূর্ণ রোহিঙ্গাদের বসতিগুলো নতুন করে বরাদ্দকৃত জমিতে কয়েকদিনের মধ্যেই সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, আমরা আশঙ্কা করছি যে সামনের বর্ষায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। দুর্যোগপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এজন্য প্রায় ২লাখ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে বরাদ্দকৃত জমিতে সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এসব রোহিঙ্গাদের দাতা সংস্থা আরআরসি, আইওএম, ইউএনএইসসিআর বাংলাদেশ সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে।
তিনি আরো বলেছেন, ঝুকিপূর্ণভাবে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের পাহাড় ধস ও প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট দুর্যোগ থেকে বাঁচাতে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের পশ্চিম পার্শ্বে ৫শত ৪০একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঝুকিপূর্ণ বসতিগুলোকে ইতিমধ্যেই লাল রং দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব রোহিঙ্গাদের বর্ষার আগেই খুব দ্রুত সময়ে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
গত বছর আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেদেশের সেনাবাহিনী পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা শুরু করে। হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, গণগ্রেফতারসহ নানা নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাড়ে ৭লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নামে মিয়ানমার সরকার বার বার বৈঠক করে কালক্ষেপণ করে আসছে।
দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে প্রথম দফায় ৮ হাজার ৩২জন রোহিঙ্গাদের তালিকা নিয়ে মিয়ানমার সরকার শুরু করেছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। জতিসংঘ ভিত্তিক এমনেস্টি বলে আসছে, রাখাইনে এখনো রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়নি। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা নতুন পুরাতন মিলে এখন ১১লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা উখিয়া টেকনাফের বনভূমির পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে। এদেরকে বাংলাদেশ ও দাতা সংস্থার সহযোগিতায় খাদ্য, বাসস্থান, ওষুধপত্র দিয়ে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
