দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে বিদ্যমান কর কাঠামোর পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। তারা মনে করেন, বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে হলে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ আনতে হবে। এ জন্য বিদ্যমান কর্পোরেট করহারে ছাড় দিতে হবে। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ের পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রাক বাজেট আলোচনায় উপস্থিত হয়ে তারা এনবিআরকে এ পরামর্শ দেন। এনবিআর আয়োজিত ওই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। আলোচনায় পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউট (পিআরআই), প্রাইসওয়াটার কুপার্স হাউজ (পিডব্লিওসি) ছাড়াও খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদরা অংশ নেন।
তারা বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য দেশে বিনিয়োগের মহাযজ্ঞ দরকার। দেশেই প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকার ভোগ ব্যয় হয়। এই বিশাল বাজার বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে। এজন্য কর রাজস্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনের কিছু সংশোধন করতে হবে। এর সঙ্গে ব্যবসায়ের পরিবেশের ইস্যুটিও যোগ করে তারা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসবে না।
পিআরআই ও পিডব্লিওসি’র পক্ষ থেকে রাজস্ব নীতি বিষয়ে আলাদা দুটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। পিআরআই’র প্রস্তাবে কর নীতি বিষয়ে স্থানীয় ও বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ন্যয্যতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্প প্রতিরক্ষণে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত বেশি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
পিডব্লিওসি’র এদেশীয় স্ট্রাটেজিক পার্টনার ও অর্থনীবিদ মামুন রশিদ বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন। অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারে ব্যবধান বাড়ানোর অংশ হিসেবে অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ৫ শতাংশ বাড়ানো উচিত।
আলোচনায় অংশ নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের শেয়ারবাজার অনেকটা জুয়া’র (গ্যাম্বলিং) মত। উত্থান-পতন পৃথিবীব্যাপী থাকলেও এখানে অনেক বেশি। এজন্য শক্তিশালী নীতিমালা দরকার। এছাড়া স্বচ্ছতা আনতে হবে বলে অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আসেনা বলেও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এজন্য আসেনা - এটি বলবো না। তবে তারা প্রকাশ হয়ে যাওয়াকে ঝামেলা মনে করে।
এসময় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান সুবিধা আরো বাড়াতে মনযোগ দেব। ব্যবসা সহজ করার বিষয়ে মনযোগ দিতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহার আরো আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করবো। তামাক করের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, নিম্ন স্তরের সিগারেটের করহার সহজ করলে স্বাস্থ্য সমস্যা। বিড়ি’র সাথে সিগারেটের পার্থক্য বেশি রাখা যাবে না। রপ্তানি খাতে বিদ্যমান সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরো কিছু সুবিধা দেওয়া যায় কিনা তা দেখব। দেশীয় মোটরসাইকেল খাতের বিদ্যমান সুবিধা অব্যাহত করতে চাই। এসময় উেস কর প্রদানকারী অনেককেই পরবর্তীতে খুঁজে পাওয়া যায়না উল্লেখ করেন তিনি।
