তালায় ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৮, ১০:৩০
আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশে সাতক্ষীরার তালায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। শেষ সময়ের অনাবৃষ্টি ও ব্লাস্ট নামক ছত্রাকের আক্রমণে বোরো উৎপাদনে এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুরুতে পরিবেশ ভাল থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৬শ' হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হলেও সর্বশেষ পরিস্থিতিতে কৃষকদের হাসি ম্লান করে দিয়েছে।
 
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবছর তালা উপজেলায় ১৮ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে গত কয়েক বছর কপোতাক্ষসহ বিভিন্ন নদের নাব্যতা সংকট থেকে শুরু করে নানা প্রতিবন্ধকতায় ধানের আশানুরূপ আবাদ না হওয়ায় এবং গতবার বাজার মূল্য ভাল থাকায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৭৫ হেক্টর বেশি পরিমাণ জমিতে ধানের আবাদ করেন কৃষকরা। প্রথম থেকে আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ থাকায় কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও ধারণা করেছিল এবার তালায় বোরোর বাম্পার ফলন হবে। তবে উৎপাদন মৌসুমের শেষ সময়ে অনাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার সাথে ঘাতক ছত্রাক ব্লাস্টের আক্রমণ সবার সব ধারণা পাল্টে দিয়েছে।
 
এ ঘটনায় কৃষক ও কৃষি বিভাগ পরস্পর পরস্পরকে দোষারোপ করছে। কৃষি বিভাগ বলছে, ব্লাস্টের ব্যাপারে তৃণমূলের কৃষকদের আগেই সচেতন করা হয়েছিল। আর কৃষকরা বলছে, ব্লাস্টের পূর্ব অভিজ্ঞতা তাদের থাকলেও এবারের আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পক্ষে তৃণমূলের কৃষকদের সচেতনতার জন্য বিশেষ কোন পরামর্শ দেওয়া হয়নি।
 
তালার ইসলামকাটি গ্রামের প্রদীপ ঘোষ, হাতবাসের নজরুল ইসলাম, পাঁচরোখির কালাম হোসেন, বারুইহাটির সাত্তার সরদার, আটারই গ্রামের মো. আলাউদ্দীনসহ অনেকেই জানান, চলতি এপ্রিলে মাঠে ধান পাকতে শুরু করেছে। কোন কোন এলাকায় কেবল ভারী হয়েছে শীষ। এমতাবস্থায় অনাবৃষ্টি ও ব্লাস্ট নামক ছত্রাকের আক্রমণে ধান উৎপাদনকে বাঁধাগ্রস্ত করায় রীতিমত বিপাকে পড়েছেন তারা। নানা সংকটে শেষ সময়ে বোরো ধানের উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা তাদের মধ্যে মারাত্মকভাবে জেঁকে বসেছে। কোন কোন এলাকায় ধানের উৎপাদন খরচ না উঠারও আশঙ্কা করছেন তারা।
 
তৃণমূলের কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমি ১০ হাজার টাকায় হারি নিয়ে ধান চাষ করতে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। অনেকে আবার মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ কিংবা একমাত্র সম্বল গবাদি পশু, গাছ বিক্রি বা স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রেখে ধান চাষ করায় রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
 
এ ব্যাপারে তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শামছুল আলমের নিকট বর্তমান পরিস্থিতিতে বোরোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই কিছুটা ক্ষতি হবে। যেখানে বিঘা প্রতি তাদের পক্ষে ২০ মণ ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এখন ১৪/১৫ মণ উৎপাদন হবে। তিনি আরও বলেন, ঘাতক ছত্রাক ব্লাস্ট ধানের শীষ শুকিয়ে দেয় এবং ধান কাটার পর এতে চিটার পরিমাণই বেশি হয়। তবুও চাষিদের মাঝে বিভিন্ন ধরণের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/এসএস