বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী উৎসব বিঝু, সাংগ্রাই, বৈষ্যু (বৈসাবি) ও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে ও পাড়া-মহল্লায় এখন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় চলছে নানান উৎসব আয়োজন। প্রধান সামাজিক এ উৎসবকে উপলক্ষ করে আদিবাসীদের গ্রাম-গঞ্জে আয়োজন করা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী নানান খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। পারিবারিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নেয়া কর্মসূচীর পাশাপাশি এখানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পার্বত্য জেলা পরিষদ, নৃ-তাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলো এ উপলক্ষে আজ বুধবার থেকে খাগড়াছড়িতে বিভিন্ন সামাজিক ও ঐতিহ্যবাহী আনুষ্ঠানিকতা পালন শুরু করেছে।
আজ বুধবার খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য র্যালি ও পাহাড়ি সংস্কৃতির ডিসপ্লে অনুষ্ঠানের। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে আজ সকালে বিশাল এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। জম্পেশ র্যালির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্ষিয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল আমীন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- খাগড়াছড়ি সেনা রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া বিশাল ও বর্ণাঢ্য র্যালিটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এখানে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে পাহাড়ি ও বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যের সংস্কৃতি তুলে ধরে ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় খাগড়াছড়ি টাউন হলে জেলার ২৫ গুণী ব্যক্তিকে দেয়া হবে সংবর্ধনা।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রধান তিনটি সম্প্রদায় চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের বসবাস। এ তিন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকেরা তিন দিনব্যাপী ভিন্ন ভিন্ন নামে এই উৎসব পালন করে থাকে। চাকমারা একে বিঝু, মারমারা ‘সাংগ্রাই’ ও ত্রিপুরারা ‘বৈষ্যু’ নামে যুগ যুগ ধরে পালন করে আসছে এ-উৎসব। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের ঘরে ঘরে প্রতিবছর বাংলা সনের চৈত্র মাসের শেষ ২ দিন এবং নববর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা-বৈশাখ এ উৎসব পালিত হয়। পুরানো বছরের সকল দুঃখ, বেদনা, রোগ-শোক, গ্লানি, হতাশা কে ঝেরে ফেলে নতুন বছরে শান্তি সম্প্রীতিতে সুখীসুন্দর জীবন গড়ার প্রত্যাশা নিয়েই উপজাতি জনগোষ্ঠী নানান আনুষ্ঠানিকতায় এই উৎসব পালন করে থাকে। বাঙালি হিন্দু ও বড়ুয়া সম্প্রদায় অবশ্য এই উৎসবকে ‘চৈত্র সংক্রান্তি’ হিসেবেই পালন করে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতীয়রা মূলত আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে এ উৎসবের সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা পালন শুরু করবে। আগামীকাল ১২ এপ্রিল ভোরে জেলা শহরের চেঙ্গী নদীতে ঐতিহ্যবাহী বর্ণিল পোশাকে শত শত নারী-পুরুষ ফুল ভাসানো ও সমাজের বয়োজৈষ্ঠ্যদের শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে সামাজিক উৎসবের সূচনা করবে।
ইত্তেফাক/এসএস
