ঠিকানায় ঠিকানা পেল পালী সুন্দরী (৭৫) নামের এক বিধবা বৃদ্ধা। স্বামী দীনেশ চন্দ্র মারা গেছে প্রায় ত্রিশ বছর আগে। তবুও জীবন জীবিকার তাগিদে অসুস্থ শরীর নিয়ে এ বাড়ি ও বাড়ি ভিক্ষা মাগতেন তিনি। জীবনের বুঝার মত ভিক্ষার ঝুলিও বহন করা ছিল তার জন্য অতি কষ্টের! মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। বসতভিটা বলতে তিনি একটি পরিত্যক্ত ঘরে থাকতেন। ঝড়-বৃষ্টি এলে তার কষ্টের সীমা থাকতো না।
পালী সুন্দরীর সেই কষ্টের ভাগীদার হয়ে সামাজিক সহায়ক সংস্থা ‘ঠিকানা’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তার পাশে দাড়িয়ে বৃদ্ধার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই সংগঠনের কর্মকর্তারা বসত ঘরটির মালিকানা ও চাবি পালী সুন্দরীর কাছে তুলে দেন। ওই বৃদ্ধার বাড়ি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাদ্যকর পাড়া গ্রামে। জীবন সায়াহ্নের এই সময়ে থাকার বসত ঘরটি পেয়ে বৃদ্ধা পালী সুন্দরীর চোখে আনন্দ অশ্রু ঝরছিল।
সামাজিক সহায়ক সংস্থা ‘ঠিকানা’ সূত্রে জানা যায়, ওই বৃদ্ধার দুই ছেলে জুতা সেলাইয়ের কাজ করে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে তাদেরও টানাপড়েনের সংসার। বৃদ্ধা মাতাকে তারা ঠিকমত খরচ দিতে পারতেন না। ওষুধ কিনে দিতে পারতেন না। বৃদ্ধার এমন করুন অবস্থাটি ‘ঠিকানা’র সদস্যদের নজরে আসে। পরে সামাজিক সহায়ক সংস্থা ‘ঠিকানা’ বৃদ্ধার থাকার জন্য একটি টিনের ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। গতকাল বিকেলে বৃদ্ধাকে বসত ঘরটির মালিকানা ও চাবি দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বাসাইল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা সুলতানা রুবি, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সামাজিক সহায়ক সংস্থা ‘ঠিকানা’র চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান রুমেলসহ ‘ঠিকানা’র অন্যান্য সদস্যরা।
‘ঠিকানা’র চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান রুমেল বলেন, পালী সুন্দরীর মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। তিনি ভিক্ষা করে কোন রকমে দিনাতি পাত করতেন। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃদ্ধাকে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন বলেও জানান তিনি।
ইত্তেফাক/এসএস
