ফেনীর ফুলগাজীতে বিচার প্রার্থী এক নারীকে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক নুরুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে তার স্বজনরা। ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ গতকাল বুধবার রাতে নিজের বাড়ি থেকে চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্র জানায়, গতকাল বিকেলে বিচার প্রার্থী ওই নারী তার ৫ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ভাগিনাকে নিয়ে ফুলগাজী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান। তখন ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম কৌশলে ওই শিশুকে টাকা দিয়ে দোকানে পাঠিয়ে বিচার প্রার্থী ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। নির্যাতিতাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থা গুরুতর দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফেনী ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় ধর্ষিতা নারীর শাশুড়ি বাদী হয়ে ফুলগাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামকে আসামি করে ফুলগাজী থানায় মামলা করলে পুলিশ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক নুরুল ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলগাজী বাজার, ঘনিয়ামোড়া ও আশপাশ এলাকায় গাছের গুড়ি, ইট পাথর দিয়ে ঘণ্টাখানেক সড়ক অবরোধ করে রাখে চেয়ারম্যান সমর্থকরা। ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিসিঞ্জার চাকমা’র নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর শুনার সাথে সাথে খোঁজ খবর নিয়ে ওই নারীর সাথে কথা বলি। চেয়ারম্যান তাকে ধর্ষণ করার উদ্দেশেই ডেকেছেন। নারীর সাথে থাকা একটা বাচ্চাকে সরিয়ে দিয়ে তিনি তাকে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। তাকে মেডিকেল রিপোর্ট করার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার শাশুড়ি বাদী হয়ে অভিযোগ দাখিল করলে চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামকে রাতেই গ্রেফতার করা হয়।
ইত্তেফাক/এসএস
