সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রামকান্তপুর বাথান এলাকার গোহালা ও ধলাই নদীতে হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন হত-দরিদ্র আজমত আলী। তার বাড়ি পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার গাড়ুলিয়া গ্রামে।
৩০টি হাঁস দিয়ে ওই এলাকায় আজমত আলী হাঁস পালন শুরু করেন। এখন তার খামারে ১ হাজার থেকে ১২শ' হাঁস রয়েছে। হাঁস খামার মালিক আজমত আলী জানান, তিনি তার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে হাঁস পালন করে আসছেন। গত বছর তিনি এ হাঁসের পাল নিয়ে শাহজাদপুর উপজেলার বাথান এলাকার রামকান্তপুর আসেন। এখানকার ধলাই ও গোহালা নদীতে তার খামারের হাঁসগুলো উন্মুক্ত বিচরণ করে শামুক-ঝিনুক ও শেওলা খেয়ে জীবন ধারণ করে থাকে। এতে তার হাঁসের খাদ্য সাশ্রয়ের পাশাপাশি হাঁসের খামার এখন বিশাল আকার ধারণ করেছে। ফলে হাঁস পালন করে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে। হাঁসের ডিম ও বড় হাঁস বিক্রি করে তিনি ৩ থেকে ৪ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। এ ছাড়া এ আয় থেকে তিনি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াও চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, হাঁস পালন করতে হলে নদী তীরবর্তী এলাকায় হাঁসের খামার অত্যন্ত লাভজনক। এ কারণে তিনি এই দুর্গম এলাকা বেঁছে নিয়েছেন। এই এলাকায় হাঁসের খাদ্য শামুক-ঝিনুক ও শেওলা জাতীয় খাবার সহজেই পাওয়া যায়। এ এলাকা হাঁস পালনের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত স্থান। সারাদিন নদীতে হাঁস ছেড়ে দিয়ে সন্ধ্যায় সময় খামারে তোলা হয়। তিনি জানান, ১ হাজার থেকে ১২শ' হাঁস বাড়িতে লালন পালন করতে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার ধান ও গম খাওয়াতে হয়। অপর দিকে উন্মুক্ত নদীতে এতো হাঁস পালনে মাত্র ২/৩শ' টাকাতেই হয়ে যায়। এতে তার আর্থিক সাশ্রয় হয়। উপরন্তু ডিম ও হাঁস বিক্রি করে তার প্রতিমাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়। তার হাঁসের খামারে ৩/৪ জন বেতন ভুক্ত কর্মচারী রয়েছে। তাদের খাদ্য ও বেতন দিয়েও তার এ পরিমাণ আয় হয়।
আজমত আলী বলেন, 'এই দুর্গম এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে থাকতে হয়। তাই অনেকেই এখানে থাকতে চায় না। এ ছাড়া মাঝে মধ্যে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে অনেক হাঁস মারা যায়। তাই হাঁস পালনে অনেক সময় লোকসানও গুণতে হয়।' তিনি দিনরাত পরিশ্রম করায় তার এ খামার থেকে সফলতা পেয়ে ভাগ্য বদলেছেন।
তিনি জানান, দুর্গম এলাকাটি মূলত গো-খামারের জন্য বিখ্যাত। এখানে রয়েছে বিশাল বিশাল গরুর বাথান। এর মাঝে তিনি বাণিজ্যিকভাবে হাঁসের খামার গড়ে তুলে এলাকার বেকারদের মাঝে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছেন। তিনি বেকারদের এ পেশায় আসতেও আহ্বান জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এসএস
