কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর সীমান্তে বিজিবি ও চোরাকারবারীদের মধ্যে গোলাগুলিতে ২জন বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর সীমান্তে তাদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
জামালপুর সীমান্তের শীর্ষ চোরাকারবারী ভুট্ট, লালু, ডাবু, সেকুল ও রবিউলসহ ১০-১২জন ভারতের নদীয়া জেলার হোগলবাড়িয়া থানার নাসিরাপাড়া সীমান্তের ১৫৩-২(এস) সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে মাদক নিয়ে ঢুকে।
সে সময় টহলরত ৩২ বিজিবি ব্যাটালিয়ান অধিনস্থ জামালপুর বিওপির সদস্যরা চোরাকারবারীদের ধাওয়া দেয়। তারা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালালে তারা পালিয়ে যায়। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত ১০-১২ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুই পক্ষের গোলাগুলির পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নায়েক শোভন ও সৈনিক অনিন্দকে উদ্ধার করে মিরপুর ব্যাটালিয়নে নেয়া হয়। চোখে গুলিবিদ্ধ বিজিবি নায়েক শোভনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং কনস্টেবল অনিন্দকে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে লালচাঁদ (৪২) ও নাজমুল (২০) নামে দুইজনকে আটক করে শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করেছে বিজিবি।
গোলাগুলির বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর ক্যাম্প ইনচার্জ নায়েক সুবেদার আবুল হাসেম জানান, চোরাকারবারীদের ছোড়া গুলিতে তাদের ২জন বিজিবি সদস্য আহত হয়েছে। বিজিবি ৭ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
সীমান্তে গোলাগুলির খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আশরাদুজ্জামান এবং ৩২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল রাশেদ আলম খান জামালপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং চোরাকারবারীদের যে কোন মূল্যে আটক করা হবে বলো জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি
