জকোভিচের দুঃস্বপ্ন চলছেই

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৮, ১৩:২২
নোভাক জকোভিচের খারাপ সময় শেষই হচ্ছে না। মন্টে কার্লো ওপেনেও তিনি হেরে গেলেন তৃতীয় রাউন্ডে। ফরাসি ওপেনে দুই বার সেমিফাইনালে ওঠা অস্ট্রিয়ার ডমিনিক থিম তাঁকে হারিয়ে দেন ৬-৭ (২/৭), ৬-২, ৬-৩। তবে ছন্দ হারানো জকোভিচ এই ম্যাচে থিমের সঙ্গে অন্তত লড়াই করার চেষ্টা করেছেন। যা দেখে কারও কারও মনে হচ্ছে, যদি এই লড়াই কোনভাবে তার মনোবল ফেরাতে পারে।
 
গত বছর জুলাইয়ে উইম্বলডন জেতার পর থেকে আর কোনও প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছতে পারেননি জকোভিচ। ডান কনুইয়ে অস্ত্রোপচারের কারণে তিনি বেশ কয়েকদিন কোর্টের বাইরেও ছিলেন। বারোটি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জেতা জকোভিচকে বিশ্বের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় রাখছিলেন অনেকে। মনে করা হচ্ছিল, রজার ফেদেরার এবং রাফায়েল নাদালকে টপকে গিয়ে তিনিই হবেন সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ডস্ল্যামের মালিক। তার এমন আকস্মিক ছন্দপতন ঘটল কেন, তা নিয়ে গবেষণা অব্যাহত টেনিস মহলে। কারও কারও বিশ্লেষণ, জকোভিচ শারীরিক ও মানসিকভাবে ঠিক জায়গায় নেই।
 
মন্টে কার্লোতে এসে ৩০ বছর বয়সী সার্বিয়ার তারকা যদিও দাবি করেছিলেন, তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। দারুণ ফুরফুরে লাগছে নিজেকে। দুই বছরে এতো তরতাজা নাকি আর কখনও লাগেনি। তার পরেও পারলেন না। থিম এর আগেও জকোভিচকে হারিয়েছেন। এখানেও তার ফিরে আসার স্বপ্ন শেষ করে দিলেন। আগের ম্যাচটি জিতে জকোভিচ বলেছিলেন, ‘সত্যিই খুব ভাল লড়াই হয়েছে। হয়তো আরও আগে ম্যাচ জেতা উচিত ছিল আমার। তবু এই ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে পড়াটা বেশ ভাল লাগল।’ তখনও বোঝা যায়নি, এই সুখ স্বল্পস্থায়ী হবে।
 
মন্টে কার্লোতে আর এক তারকা নাদাল অবশ্য দারুণ শুরু করেছেন। সম্ভবত থিমের সামনেই পড়ছেন নাদাল। তাকেও চোটের কারণে বাইরে কাটাতে হয়েছে। গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলীয় ওপেনে হারার পর এই প্রথম কোর্টে নেমেছেন তিনি। ‘আমাকে এখন কোর্টে সময় কাটাতে হবে। অনেক দিন ধরে তো খেলতেই পারিনি,’ বলেছেন নাদাল।
 
যোগ করছেন, ‘যে কোনও ম্যাচে জেতার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারাটাও আমার কাছে খুব ইতিবাচক ব্যাপার। তাতে আমার আত্মবিশ্বাস বাড়বে।’ এরপরই তার এমন এক মন্তব্য, যা উদাহরণ হয়ে থাকতে যে কোনও তরুণ খেলোয়াড়ের কাছে, ‘যদি একটা ম্যাচ জিততে পারি, তার অর্থ হচ্ছে, আরও একটি ম্যাচে খেলতে পারার সুযোগ।’
 
ইত্তেফাক/কেআই