বগুড়ার আদমদীঘিতে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে রহস্যজনকভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ডুমুরীগ্রাম এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, নিহত প্রধান শিক্ষকের নাম- আব্দুর রশিদ (৪৬)। তিনি আদমদীঘির ডুমুরীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তিনি এর পাশাপাশি মাছচাষ করে আসছিলেন। পুকুরে চাষ করা মাছের খাদ্য প্রতিদিন দিয়ে আসতেন। প্রধান শিক্ষক প্রতিদিনের মতো গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পুকুরে মাছের খাবার দিতে যাবার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। আজ শুক্রবার সকালে গ্রামবাসী ওই পুকুরের কিছু দূরে আটক ব্যক্তি বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে একটি বাগানে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ আজ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন।
নিহত রশিদের ভায়রা রেজাউল ইসলাম বলেন, পুকুর পাশের বাড়ির এক গৃহবধূর সাথে ৩/৪ বছর আগে থেকে পরকীয়া জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘ দিন ধরে পরকীয়া চলার সময় প্রায় বছর খানেক পূর্বে পাড়া-প্রতিবেশীরা তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এনিয়ে গ্রাম্য শালিসে ওই শিক্ষকের জরিমানা করেন। এর জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তিনি দাবী করেন।
পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছেন, প্রধান শিক্ষককে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার ধারালো অস্ত্র দ্বারা মুখমণ্ডলে কুপিয়ে ও গোপনাঙ্গ কেটে হত্যা নিশ্চিত করে বাগানে ফেলে রাখে।
এব্যাপারে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সায়িদ মো. ওয়াহেদুজ্জামান জানান, এই খুনের ঘটনা পরকীয়ায় ঘটতে পারে বলে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ওই গৃহবধূ ও তার স্বামীকে আটক করা হয়েছে। এরিপোর্ট পাঠানো সময় পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। তবে প্রস্তুতি চলছিল।
ইত্তেফাক/এসএস
