ঝর্ণা বেগম মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেওথা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শনিবার সকালে তার ৭ মাস বয়সী শিশু সোয়াইবকে নিয়ে এসেছিলেন মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য। শুক্রবার বিকেল থেকেই পাতলা পায়খানা, বমি শুরু হয়। এরপর অবস্থার অবনতি দেখে আমি সকালে তাকে নিয়ে এই হাসপাতালে আসি।
ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেবার পর বেড না থাকায় সোয়াইবকে নিয়ে বারান্দার একটি বেঞ্চের উপর স্যালাইন চলাকালীন অবস্থায় বসে থাকতে হয়। বেড পাবো কিনা তারও কোন নিশ্চয়তা পাচ্ছি না।
ঘিওর উপজেলার রফিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে তার মেয়ে ৭ মাস বয়সী তাঈবাকে নিয়ে এসেছে চিকিৎসার জন্য। কিন্তু মোটামুটি চিকিৎসা পেলেও পায়নি বিশুদ্ধ পানি।
অধিকাংশ রোগীরা জানান, টানা তিনদিনের তীব্র গরমে পাল্লাদিয়ে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। শিশুদের সাথে সাথে সব বয়সী রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডায়রেরিয়া একটি পানিবাহিত রোগ এজন্য তাদের খাবার তালিকায় ডাব আবশ্যক। কিন্তু তারা ডাব পায় না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তাদের বাইরে থেকে ডাব কিনে আনতে হয়। এখানে পর্যপ্ত পরিমানে বিশুদ্ধ পানি নেই বাইরে থেকে তাদের পানি কিনে আনতে হয়। নেই পয়নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালের বাইরে নিয়ে মূত্র ত্যাগ করানোর দৃশ্য মেলে এখানে। প্রতিদিন একটি রোগীর জন্য ২টি ডিম, ১টি কলা এবং প্রয়োজন অনুপাতে চিড়া ও চিনি পায়। কিন্তু তাদের মতে ১২৫ টাকায় আরো বেশি খাবার পাওয়া যাবে।
ডায়েরিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ নাসরিন আক্তার বলেন, গত তিন দিনে আমার ওয়ার্ডে ৩১জন রোগী ভর্তি হয়। যা অন্য যে কোন সময়ের চাইতে বেশি। বেডের সংখ্যা কম থাকায় কিছু রোগীকে বাহিরে বারান্দায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে কিন্তু আমরা যথাসাধ্য চিকিৎসা সেবা দেবার চেষ্টা করছি।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. লুৎফর রহমান বলেন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা কম আছে। আমার মতে বেডের সংখ্যা আরো বাড়ানো উচিত। আর রোগীদের খাবারের সাথে ডাব থাকার কথা থাকলেও ১২৫ টাকা বাজেটে তা দেয়া সম্ভব না। ডাব দিতে গেলে অন্য খাবার দেয়া সম্ভব নয়।
ইত্তেফাক/আরকেজি
