লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে কুপিয়ে ও পিটিয়ে এক মিস্ত্রিকে খুন করেছে প্রতিপক্ষ। নিহত মিস্ত্রি খায়ের মৃধা পার মল্লিকপুর গ্রামের মৃত মোহাজ্জেল মৃধার ছেলে।
হত্যার পর উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার জন্য পুলিশ ৩০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশের গুলিতে ১০জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য উজ্জ্বল ঠাকুর সমর্থিত লোকজনদের সাথে একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য হিমায়েত হোসেন হিমু সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে শনিবার সকালে মল্লিকপুর চৌরাস্তার ভ্যান স্ট্যান্ডে উজ্জ্বল ঠাকুরের লোকজন প্রতিপক্ষের গোলাম কিবরিয়া লিটু ও আকরাম সরদারকে মারপিট করে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হেমায়েত হোসেন হিমু লোকজন টিউবয়েল মিস্ত্রি আবুল খায়ের মৃধাকে (৪০) পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়ার পথে হবি মৃধার দোকানের কাছে পৌঁছালে ফের প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে দুপায়ের রগ কেটে মারাত্মক আহত করে।
এ সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে আকরাম সরদার, গোলাম কিবরিয়া লিটু, রফিকুল শেখ, রইচ কাজী, মনিরুল গাজী আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ ৩০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি বর্ষণ করে। এদিকে গুরুতর আহত খায়ের মৃধাকে ঢাকা নেবার পথে তার অবস্থার অবনতি হলে পথিমধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
দুপুর ১২টার দিকে গ্রামে খায়ের মৃধার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উজ্জ্বল ঠাকুর সমর্থিত লোকজন প্রতিপক্ষ হাফিজ শেখ, এরশাদ শেখের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ ভাংচুর ও লুটপাট ঠেকাতে উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে আরও ৫ রাউন্ড শর্টগানের গুলি বর্ষণ করে।
এ সময় পুলিশের গুলিতে আনিচ ঠাকুর, সবুজ মিনা, নেওয়ান সরদার, রিয়াজুল ঠাকুর ও পার্শ্ববর্তী ঝিকড়া গ্রামের কলেজ ছাত্র সজিব শেখ গুলিবিদ্ধ হয়। আহতদের নড়াইল, যশোর, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আনিচ ঠাকুর জানান, পুলিশ অন্যায় ভাবে আমাদের ওপর গুলি চালিয়ে আহত করেছে। তবে এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম গ্রামবাসীদের ওপর গুলি বর্ষণের কথা অস্বীকার করে বলেন, উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ ৩০ রাউন্ড শর্ট গানের ফাঁকা ছোড়ে।
নড়াইলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানান, গ্রামবাসীদের ওপর পুলিশ গুলি করেছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হবে। বর্তমানে ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
