ছেলেকে পুড়িয়ে হত্যার কথা স্বীকার করলেন মা

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:২৭
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে নিজ সন্তান হৃদয়কে (৯) পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে মা শেফালী আক্তার। এ সংক্রান্ত দায়েরকৃত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আড়াইহাজার থানার এসআই কাসেম আজ রবিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
 
তিনি জানান, ১৪ এপ্রিল নিহত হৃদয়ের গ্রেফতারকৃত মা শেফালী আক্তারকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মেহেদি হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন তিনি। এ সময় স্বীকারোক্তিতে তিনি বলেন, প্রেমিক মোমেনের সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্যই মোমেনকে সাথে নিয়ে নিজের দু'সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঁথায় মুড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ফলে বড় ছেলে হৃদয় (৯) সঙ্গে সঙ্গে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় ছোট ছেলে শিহাবকে (৭) তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় সে বেঁচে যায়।
 
জানা গেছে, আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী আনোয়ারের স্ত্রী শেফালীর সাথে একই গ্রামের বাসিন্দা মোমেনের প্রায় দুই বছর ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক চলছিল। এক বৎসর পূর্বে বিষয়টি তার পরিবারের লোকজন জানতে পেরে শেফালীকে এ কাজ থেকে সরে দাড়ানোর জন্য সতর্ক করা হয়। সতর্কে কাজ না হওয়ায় তার বাবাকে ডেকে এনে বিষয়টি জানান এবং তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
 
গত সাত মাস পূর্বে তার প্রবাসী স্বামী আনোয়ার দেশে এসে সন্তানদের চিন্তা করে বাড়িতে ঠাই দেয়। ১৫ দিন দেশে থেকে স্বামী প্রবাসে চলে গেলে আবারও তার প্রেমিক মোমেনের সাথে চিকিৎসার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। ৫ মাস পূর্বে মোমেনের স্ত্রী একটি মোবাইলে তাদের দুইজনের আপত্তি কর কিছু ছবি ও ভিডিও দেখে আনোয়ারের বাবাকে দেখালে। স্থানীয় মাতব্বরদের মাধ্যমে শেফালীর বিচার করা হয়। এবং আপত্তিকর ছবিগুলো প্রবাসে আনোয়ারের নিকট পাঠালে। আনোয়ার তালাকের কাগজ পাঠিয়ে দিলেও তার স্বামী দেশে না আসা পর্যন্ত এই বাড়ি ছেড়ে যাবে না বলে জানায়। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হয়। সে থেকে নিজ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী ও তার প্রেমিক মোমেন। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে পাষণ্ড মা শেফালী বেগম ও তার প্রেমিক মোমেন ঘুমন্ত অবস্থায় দুই সন্তান হৃদয় ও শিহাবকে কাঁথায় পেঁচিয়ে এবং কেরোসিন ঢেলে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে ঝলসে যায় নিষ্পাপ দুই সন্তানের দেহ। আশপাশের লোকজন সন্তানদের আত্মচিৎকারে বেরিয়ে আসে। কিন্তু অগ্নিদগ্ধ হৃদয় (৯) এর মধ্যে মারা যায়। প্রতিবেশীরা আরেক সন্তান শিহাবকে (৭) অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রেফার করে। সেখান থেকে তাকে শনিবার সকালে বাড়িতে আনা হয়। নিহত হৃদয় ৩৫ নম্বর বাড়ৈইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র।
 
এ ব্যাপারে নিহত হৃদয়ের দাদা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় শেফালী ও মোমেনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মা শেফালী আক্তার ঢাকার কেরানীগঞ্জের লালাটি এলাকার সুন্দর আলীর কন্যা বলে পুলিশকে জানায় ও মোমেন উপজেলার দয়াকান্দা গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে। সুরুজ মিয়া তার মা জাহানারাকে তালাক দিলে বাড়ৈপাড়া গ্রামের বিল্লালের সাথে বিয়ে হলে সেই থেকে মোমেন বাড়ৈপাড়া থাকে।
 
ইত্তেফাক/এসএস