জাতীয়পার্টি জেপির চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ধৈর্যশীলকে আল্লাহতালা পছন্দ করেন। আমাদের জীবন দুইটি। পৃথিবীতে আসি স্বল্প সময়ের জন্য। বাকি জীবন কাটাতে হবে অজানা স্থানে। কাল কেয়ামতে আমাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। পরম করুণাময় আল্লাহতালা আমাদের ইচ্ছা পূরণ করেন।
গত সোমবার রাতে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সদরে তাফসির ময়দানে ইসলামী সমাজ কল্যাণ কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আট দিনব্যাপী ৬৪তম বার্ষিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের শুরুর দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী আরো বলেন, আমি আপনাদের মাঝে দীর্ঘদিন আছি। আল্লাহতালা আমাকে দিয়ে দেশের ১৭ কোটি মানুষের যত্সামান্য হলেও কিছু সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আল্লাহতালা কাকে দিয়ে কি কাজ করাবেন, কত সময় করাবেন তা তিনিই নির্ধারণ করে রেখেছেন। কোনো লোক অল্প বয়সে মারা গেলে তাকে অকাল মৃত্যু বলা হয়। আসলে অকাল মৃত্যু বলা ঠিক নয়। ইহ জগতে তার হায়াত যতদিন ছিল ততদিন অতিবাহিত হলেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। ৩২ বছর ধরে আপনাদের মাঝে আছি। তার মধ্যে ১৭ বছর মন্ত্রী। মুসলমানদের ইমানের প্রতি জোর রাখতে হবে। ইমান ঠিক রেখে প্রতিদিন দৈনন্দিন কাজ শুরু এবং আহারের আগে বিসমিল্লাহ ও রাতে নিদ্রায় যাওয়ার পূর্বে তওবা করা উচিত। কারণ বিসমিল্লাহতে বরকত আছে এবং তওবা করলে অনেক গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেন এবং আল্লাহকে প্রতি মুহূর্তে স্মরণ করা উচিত। এই ভাণ্ডারিয়ার উপর অনেক রহমত আছে। কারণ এখানে অনেক মুরুব্বীর দোয়া এবং আপনারা এক আছেন বলেই গ্রামীণ উন্নয়নের কাজ করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের অসীম চাহিদা কিন্তু সম্পদ সীমিত। তাই আপনাদের সুখ, দুঃখে সব সময় আপনাদের পাশে থেকে খোঁজ-খবর নিয়েছি। মন্ত্রী আরো বলেন, আমি যে কাজ সম্পন্ন করতে পারি নাই তা আমার পরে আপনাদের সন্তানরা সে কাজ করতে সক্ষম হবে। তবে কাজের ব্যাপারে আপনাদের চোখ খুলে দিয়েছি। কাজের বিষয়ে আপনাদের মধ্যে উপলব্ধি বোধ রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চল সব থেকে নিরাপদ। পার্শ্ববর্তী উপজেলায় অনেক ঘটনাই ঘটে। সে তুলনায় আল্লাহর অসীম রহমতে আমরা সুখে-শান্তিতে অছি।
অনুষ্ঠানে আলহাজ মাওলানা আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে মোনাজাত পরিচালনা করেন আলহাজ মাওলানা আব্দুল আহাদ আনছারি।
এসময় দোয়ায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছিদ্দিকুর রহমান টুলু, মজিবুর রহমান চৌধুরী, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, টুঙ্গিপাড়া আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশিদ তারিক জোমাদ্দার প্রমুখ। ভাণ্ডারিয়া ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার হাজারো মুসুল্লি দোয়ায় শরিক হন।
ভাণ্ডারিয়া হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন
জাতীয় পার্টি জেপির চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণে মেরামত ও পুনঃসংস্কার কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এ উপলক্ষে এক দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উপজেলা পর্যায়ের মধ্যে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভাণ্ডারিয়ায় করা সম্ভব হয়েছে। ৪৮২টি উপজেলার মধ্যে আমরা পেয়েছি। কারণ এখানে ভিন্ন ভিন্ন রাজনীতি করলেও উন্নয়নের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে ঐক্য আছে বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। চিকিত্সকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার আপনাদের ভবন করে দিয়েছে; কিন্তু মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তারদের নিজ নিজ এলাকায় থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নির্দেশ থাকলেও এখানে ডাক্তার আসেন এবং চলে যান। এখানে কখনো তিন জন, দুই জন আবার কখনো একজন ডাক্তার থাকেন। যার ফলে চিকিত্সা সেবার মান ব্যাহত হয়। সে বিশৃঙ্খলা আমাদের ঠিক করতে হবে। যদিও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্ব স্ব এলাকার এমপির নির্দেশ ছাড়া কোনো ডাক্তার অন্যত্র চলে যেতে পারেন না; কিন্তু এখানে ডাক্তার আসলে আবার ঢাকায় চলে গিয়ে তারা লাভবান হন। তারা মনে করেন ঢাকার বাইরে থাকলে তাদের কোনো লাভ নাই। ৩২ বছর ধরে আপনাদের মাঝে আছি। কখনো রাজনীতির কথা বলিনি। সব সময় আপনাদের সেবা করার চেষ্টা করেছি। যার যার রাজনীতি সে করবেন। স্থানীয়রা কেউ কখনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না। কারণ তারা গড়তেও পারেন আবার ভাঙতেও পারেন। আল্লাহর অসীম রহমত আছে আমাদের উপরে। আমাদের দেশে যখন যে ক্ষমতায় থাকে তখন তারা আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বলেন আমি মিটিং-এ বা সরকারি কোনো কাজে আছি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জহিরুল ইসলাম। এসময় বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক ডা. সুশান্ত কুমার রায়, পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ফারুক আলম, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুদ্দিন গিয়াস, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশিদ খশরু জোমাদ্দার, ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছিদ্দিকুর রহমান টুলু, মজিবুর রহমান চৌধুরী, খান এনামুল করিম পান্নাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভাণ্ডারিয়া পৌর সভার ২নং ওয়ার্ডের ভাণ্ডারিয়া-বরিশাল মহাসড়কের মিয়া বাড়ি থেকে মরহুম ইয়াছিন মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, পৌর সভার ৫নং ওয়ার্ডের বাঁশের পোল-মুন্সিবাড়ি ব্রিজ, চোকদার খালের লোহার পোল, মানিক মিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সংলগ্ন সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু উপলক্ষে দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন।
ইত্তেফাক/নূহু
