খুলনা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ২১:৫৫
খুলনাকে একটি উন্নত, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত নগরী হিসাবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। 
 
তালুকদার আব্দুল খালেকের ঘোষিত নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে, ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ, খুলনা মহানগরীর উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণে পরামর্শক কমিটি গঠন, নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে পানি ও পয়ঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, ওয়াসা, কেডিএ, রেলওয়ে, টেলিকমিউনিকেশন ও বিদ্যুৎ পরিষেবা উন্নয়ন, কবরস্থান ও শ্মশানঘাটের উন্নয়ন, মাদকমুক্ত নগর গড়ে তোলা, নগরীতে আরো আধুনিক বিপনীকেন্দ্র ও মার্কেট তৈরি এবং এ অঞ্চলের যেসব মানুষ দেশের বাইরে আছেন-তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুলনাকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা, নতুন আয়ের উৎস সৃষ্টি, সিটি সেন্টার গড়ে তোলা, বিনামূল্যে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি, গুরুত্ব বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়ন, নগরীতে পার্ক-উদ্যান নির্মাণ ও বনায়ন সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটানো, মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে রাস্তার নামকরণ, প্রতিটি ওয়ার্ডে  ক্রীড়া উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ, সোলার পার্ক আধুনিকায়ন, বধ্যভূমিগুলোর স্মৃতি সংরক্ষণ, কেসিসিকে দুর্নীতিমুক্তকরণ, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নারী উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদান, সুইমিং পুল স্থাপন, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তা প্রদান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ, নগরীর সৌন্দর্য্যবর্ধনে আরো উদ্যোগ গ্রহণ, তিনটি নতুন থানা পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা, আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ, খালিশপুর ও রূপসা শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন, কেসিসিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং খুলনা মহানগরীর সম্প্রাসারণের উদ্যোগ গ্রহণ। 
 
তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে ধাপে ধাপে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন। এ ক্ষেত্রে জনসাধারণের মতামতকে প্রাধান্য দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। 
 
ইশতেহার ঘোষণাকালে  আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার খালেক বলেন, ইতোপূর্বে আমি কেসিসির ওয়ার্ড কমিশনার হিসেবে ১২ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। রামপাল-মোংলা নির্বাচনী এলাকা থেকে আমি চারবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছি। 
 
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে খুলনাবাসী আমাকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেছিল। সেই নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিলাম। খুলনা মহানগরীর সার্বিক উন্নয়ন ও নগরবাসীর সেবা করার জন্য নির্বাচনী ইশতেহারে আমি বেশ কিছু অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এ ছাড়া দায়িত্ব গ্রহণের পর কিছু নতুন পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছিলাম। ওই পাঁচ বছরে আমার দেয়া অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা মহানগরীর রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বেশ সাফল্য অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৩ সালে আমি মেয়র নির্বাচিত হতে পারিনি তাই আমার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার সুযোগ ছিল না।
 
তিনি বলেন, আমার দায়িত্বকালে নেয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদী প্রকল্পের কাজগুলো শেষ হয়েছিল। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের কাজ চলছিল। পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে আমি খুলনা মহানগরীকে পরিকল্পিত ও উন্নত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। খুলনা সিটি করপোরেশনের সামগ্রিক কার্যক্রমে যতটা সম্ভব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনা এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়েছে। 
 
খালেক বলেন, আমি মেয়র হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে কেসিসি ছিল একটি দেনাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব আয়ের তেমন কোনো উৎস ছিল না। তবে, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন উন্নয়ন খাত ও আয়ের উৎস সৃষ্টি করে পাঁচ বছরে খুলনা সিটি করপোরেশনকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সব রকম চেষ্ট করেছি। তার ফলও পাওয়া গিয়েছিল। কেসিসির রাজস্ব আদায় ও আয় আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এতে কর্পোরেশনের সামগ্রিক কার্যক্রমে গতিশীলতা এসেছিল। ব্যাংকের মাধ্যমে হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য খাতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ায় নগরবাসী ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছিল।
 
তিনি বলেন, আপনার যদি আমাকে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত করেন তাহলে, আমি আমার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো শেষ করতে এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ নগরবাসীকে অধিকতর সেবা দিতে সচেষ্ট থাকব।
 
ইশতেহার ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক কাজী আমিনুল হক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এসএম কামাল হোসেন, বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সোহেল, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা, মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মকবুল হোসেন মিন্টু, জাতীয় পার্টির (জেপি) ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, ডা. শেখ বাহারুল আলম, এমডিএ রাবুল রানা, শ্যামল সিংহ রায়, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান পপলু প্রমুখ। 
 
ইত্তেফাক/ইউবি