নির্বাচনী গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ভোটারদের মন জয়ে তারা এলাকার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও মশক নিধনসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থী ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বিগত সময়ের ভুল-ত্রুটির জন্য অনেকে ক্ষমাও চেয়ে নিচ্ছেন। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের এই গণসংযোগ ও কুশল বিনিময়ের ফলে নগরীর অলিগলি এখন উত্সবমুখর হয়ে উঠেছে।
খালেকের প্রচারণা: গতকাল বুধবার সকালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচা বাজার এলাকা এবং দুপুরে নগরীর স্যার ইকবাল রোড, বড় বাজার ও দুই নম্বর কাস্টম ঘাট এলাকায় গণসংযোগ করেন। এসময় তালুকদার খালেক ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আমার এই জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। জীবনের বাকি দিনগুলো আমি খুলনাবাসীর সেবায় উত্সর্গ করতে চাই। তিনি নৌকা প্রতীকে নগরবাসীর সমর্থন ও ভোট প্রার্থনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌকা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, চিংড়ি বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান মঞ্জিল প্রমুখ। বিকালে দলীয় কার্যালয়ে তালুকদার আব্দুল খালেক শ্রমিক লীগের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেককে সমর্থন জানিয়েছে খুলনা মহানগর নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ।
৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার:আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনাকে একটি উন্নত, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত নগরী হিসাবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। তার উল্লেখযোগ্য নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে, ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ, খুলনা মহানগরীর উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণে ‘পরামর্শক কমিটি’ গঠন, নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ‘পানি ও পয়োঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাদকমুক্ত নগর গড়ে তোলা, কেসিসিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং খুলনা মহানগরী সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ।
ইশতেহার ঘোষণাকালে তালুকদার খালেক বলেন, আপনারা যদি আমাকে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত করেন তাহলে আমি আমার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো শেষ করতে এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ নগরবাসীকে অধিকতর সেবা দিতে সচেষ্ট থাকব। এসময় তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক কাজী আমিনুল হক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এসএম কামাল হোসেন, বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সোহেল, জাতীয় পার্টির (জেপি) ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন প্রমুখ।
মঞ্জু’র গণসংযোগ:বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু গতকাল সকালে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ড এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়া তেঁতুলতলা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান সরকার মুখে উন্নয়নের গালগল্প শোনালেও দেশে কার্যত লুটেরাতন্ত্র কায়েম হয়েছে। আসন্ন সিটি নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে এই লুটপাটকারীদের প্রত্যাখ্যান করার জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি আহবান জানান। এসময় সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, মহানগর বিজেপির সভাপতি অ্যাডভোকেট লতিফুর রহমান লাবু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি আদালত প্রাঙ্গন ও বার সমিতিতে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায় খুলনা মহানগরীতে গণসংযোগ করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে ধানের শীষ মার্কায় ভোট চেয়েছেন। বেলা ১১ টার দিকে নগরীর সিটি কলেজ মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
খালেকের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ মঞ্জুর: আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে ফের আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গতকাল বুধবার তিনি রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে মঞ্জু বলেন, তালুকদার আব্দুল খালেক নিজস্ব প্রাইভেট গাড়িতে নৌকা প্রতীকের পোস্টার লাগিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। তার এই আচরণ কেসিসি নির্বাচন বিধিমালার ৮ (৮) ধারার সুষ্পষ্ট লংঘন।
ইত্তেফাক/নূহু
