আজ জলঢাকা কালিগঞ্জ বধ্যভূমির গণহত্যা দিবস

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৮, ০১:১৩

আজ ২৭ এপ্রিল শুক্রবার জলঢাকা কালিগঞ্জ বধ্যভূমির গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের কালিগঞ্জে ৩শ মানুষকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করেছিল পাক সেনারা।

এর কয়েক বছর পর হত্যাযজ্ঞের স্থানটি পরিদর্শনে আসেন তৎকালীন জাতীয় সংসদের চিফ হুইফ আব্দুর রউফ। সেখানে এসে তিনি ঐ এলাকার জনগণের সহযোগীতায় বধ্যভূমি হিসেবে কালিগঞ্জকে চিহ্নিত করে এবং জায়গাটিতে ৩শ শহীদের নামসহ একটি নাম ফলক উন্মোচন করেন।

উক্ত নাম ফলকটি থেকে অযত্ন আর অবহেলায় মুছে গেছে ৩শ শহীদের নাম। বধ্যভূমির নাম ফলকটি দেখার যেন কেউ নাই!

ভয়াবহ সেই হত্যাকাণ্ডের দিন মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া শহীদ বাবু অশ্বিনী অধিকারীর ছেলে অমর অধিকারীর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, সেদিন ছিল ২৭ তারিখ আমরা পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন বালাগ্রাম থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ভারতে শরনার্থী হয়ে যাওয়ার জন্য কালিগঞ্জে প্রায় ৪শ হিন্দু পরিবার একখানে জড়ো হই। কিন্তু আমাদের ভারতে যাওয়ার বিষয়টা রাজাকাররা পাক সেনাদের জানিয়েছিল। তাই আমরা ওখান থেকে রওনা দেওয়ার আগেই দেখি পার্শবর্তী ডোমার থানা থেকে সাতটি কাভার্ড ভ্যানে এলো পাক সেনারা। তারা গাড়ি থেকে নেমেই বৃদ্ধ, শিশু আর নারীদের আলাদা করে ফেললো। এরপরে তারা বৃদ্ধ ও যুবকদের একসঙ্গে সারিবদ্ধ করে দাঁড় করিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করলো।

তিনি বলেন, গুলি হবার সঙ্গে সঙ্গে আমি জ্ঞান হারাই। জ্ঞ্যান ফিরে এলে দেখি আমার সারা গায়ে হালকা মাটিচাপা এবং প্রচণ্ড পানির পিপাসা লেগেছিল। তার কয়েক মিনিট পরে হাতদিয়ে আমার পা নারতে গিয়ে দেখি পা নড়েনা। তখন আমার চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন এসে আমাক উদ্ধার করে। ঐ সময় আমি দেখতে পাই আমার পায়ে গুলি লেগেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমবেদনা স্বরূপ ক্ষতিগ্রস্ত শহীদ পরিবারগুলো এক বান্ডিল ঢেউটিন ও ৫শ-২ হাজার টাকা করে পায়। এই ছিল আমাদের শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি।

এ ব্যাপারে শিমুলবাড়ি বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ জাহেদ আলী বলেন, কালিগঞ্জ বধ্যভূমির গণহত্যার স্থানটিতে তৈরি করা হয়েছে একটি শহীদ মিনার। কিন্তু ওখানে  একটি আধুনিক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা দরকার বলে আমি মনে করি।

কালিগঞ্জ বধ্যভুমি আধুনিকায়নের বিষয়ে স্থানীয় এমপি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, বধ্যভূমি আধুনিকায়নের জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে এরমধ্যে কাজ শুরু করবেন কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি সরকারিভাবে এ শহীদ পরিবারগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে, তাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা দরকার।

ইত্তেফাক/নূহু