পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন বন পাকিস্তানের ‘জুনিপার বন’। বেলুচিস্তান প্রদেশের জিয়ারতের এক লাখ দশ হাজার হেক্টর জুড়ে এর বিস্তৃতি। বনে উল্লেখযোগ্য এমন অনেক গাছ রয়েছে যেগুলোর বয়স পাঁচ থেকে সাত হাজার বছরেরও বেশি। একারণে ‘জীবন্ত জীবাশ্মের খ্যাতি’ লাভ করেছে জুনিপার। পর্বতঘেরা বেলুচিস্তান প্রদেশের এই বন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার ফুট থেকে সাড়ে তিন হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত।
জুনিপার বনের গাছের বয়স হাজার বছর অনুমান করা হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সেই ভাবে কোন ‘ডেনড্রোলজিক্যাল গবেষণা’ হয়নি। জুনিপার বন নিয়ে প্রতিনিয়তই বাড়ছে মানুষের কৌতূহল। এতো উচ্চতায় গাছগুলোর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার বিষয়টি রীতিমতো এক বিস্ময়কর ঘটনা। গবেষকদের মতে, পাকিস্তান ও এর আশপাশের অঞ্চল এমনকি পৃথিবীর অতীত আবহাওয়ার অবস্থা এবং পরিবেশগত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই বন।
২০১৬ সালে পাকিস্তানের পুরাতত্ত্ব বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল ইউনেস্কোতে দেয়া এক প্রতিবেদনে জানান, এক লাখ দশ হাজার একর এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে জুনিপার বন। বনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাছের বয়স হাজার বছরের বেশি। এই বনে রয়েছে কালো ভল্লুক, নেকড়ে, বিশেষ এক ধরনের ভেড়া ‘ইউরিয়ালস’ এবং বড় আকারের বন্য ছাগল সুলেমান মারখোরের বাস। জুনিপার বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে স্থানীয়রা জ্বালানির অভাব পূরণ করেন। এছাড়া জুনিপার বনের ৫৪ প্রকার গাছের অর্ধেকই ব্যবহূত হয় গুরুত্বপূর্ণ রোগের ওষুধ তৈরিতে। বেলুচিস্তান প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরের এই এলাকা অনেক আগে থেকেই পর্যটন স্পট হিসেবে মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জীবনের শেষ সময়টাও সুস্বাস্থ্যের আশায় কাটিয়ে ছিলেন এখানকার রিসোর্টে।
হতাশার কথা, নানা কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে জুনিপার বনের গাছ। প্রায়শই স্থানীয়রা অভিযোগ করে থাকেন, জুনিপার বন রক্ষায় প্রাদেশিক কর্মকর্তারা অবহেলা করছেন। তাদের অভিযোগ, বন সংরক্ষণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে প্রাদেশিক কর্মকর্তারা। তবে বন কর্মকর্তারা বলছেন, তারা তাদের মতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নিয়মিতভাবে কাজ করে গেলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে না। গত বছর ২০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হলেও টিকে রয়েছে মাত্র ২ দুই হাজার গাছ।-বিবিসি
ইত্তেফাক/রেজা
