নরসিংদী জেলায় ভরাট হয়ে যাওয়া নদী খননের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, বন্যায় নদীর পাড় ভাঙন থেকে তীর রক্ষা, নদী পথে সঠিক নাব্যতা ফিরিয়ে নৌ চলাচলের উন্নয়ন, পানির গুণগতমান উন্নয়ন, পানি সম্পদ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাসহ পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে নরসিংদী জেলার অন্তর্ভুক্ত ‘আড়িয়ালখা নদী, হাড়িদোয়া নদী, পাহাড়িয়া নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ (নরসিংদী অংশ), মেঘনা নদীর পশ্চিম চ্যানেল ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র শাখা নদ, এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত ব্রহ্মপুত্র নদ (নারায়ণগঞ্জ অংশে আড়াই হাজার, সোনারগাঁ ও বন্দর) পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে শনিবার নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের শুঁটকিকান্দী গ্রামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক। উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান সরকার। প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেড মহা পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার আনিছ এএফডব্লিউসি, পিএসসি, অতিরিক্ত মহা পরিচালক কর্নেল মো. তৌহিদ হোসেন পিএসসি, প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল কিসমৎ হায়াৎ পিপিএম ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী (কে. অ.) এ. এইচ. এম ফখরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবদুল মতিন সরকার, নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শংকর চক্রবর্তী, নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন, নরসিংদী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ভূইয়া, নরসিংদী পৌরসভার মেয়র মো. কামরুজ্জামান কামরুল, করিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারিছ মিয়া প্রমুখ।
প্রকল্পটি আর্থ সামাজিক এবং সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে মোট ব্যয় ৫শ কোটি ২৮ লাখ টাকায় বাস্তবায়ন করাতে সভাপতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত হয়।
প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ভৌতকাজ সমূহ- নদী পুনঃখনন কাজ-২৩১.৮০ কিলোমিটার, ঢেউয়ের আঘাত হতে নদীর তীর রক্ষার কাজ- ২২.২০৪ কিলোমিটার, নদীর তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ- ১.১৫০ কিলোমিটার, ব্রিজ শক্তিশালী করণ কাজ ৮৫টি।
IMG0
এছাড়া নদী সমূহে খননকৃত মাটি দ্বারা নদীর দুই পাড়ে বিদ্যমান রাস্তা, খেলার মাঠ, জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য ভূমি, স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, গীর্জার ভিটা/আঙ্গিনা ভরাট এবং জনসাধারণের মালিকানাধীন অপেক্ষাকৃত নীচু কৃষিভূমি অথবা পতিত ভূমি চাষাবাদযোগ্য করার লক্ষ্যে উঁচুকরণ কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণের সাথে সরকারের কাজ করার পথ আরো প্রশস্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকালীন ও বাস্তবায়নোত্তর রক্ষণাবেক্ষণ কাজে সমাজের দরিদ্র শ্রেণির জন্য বিশেষত: দিন মজুর, স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা মহিলাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দরিদ্র বিমোচন করা হবে।
জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির বাস্তবায়নে বিশেষ বিবেচনায় এবং নির্ধারিত সময়ে শেষ করার নিমিত্তে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
ঢাকা থেকে প্রায় ৫৭ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব ও পূর্ব দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুপাশে নরসিংদী জেলা অবস্থিত।
নরসিংদী সদর, শিবপুর, মনোহরদী, বেলাব, রায়পুরা ও পলাশ এ ৬টি উপলজেলা নিয়ে নরসিংদী জেলা গঠিত। নরসিংদী জেলার দুপাশে মেঘনা ও শীতলক্ষা নদী সারাবছর নাব্যতা বিরাজ করলেও অন্যান্য নদীসমূহ ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদী নাব্যতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এ কাজ হাতে নিয়েছে। বাস্তবায়নকাল ডিপিপি অনুযায়ী ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জুন এবং বাস্তবায়নকাল কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর।
ইত্তেফাক/এমআই
