খুলনায় দুই দলের গণসংযোগে মানুষের ঢল

আপডেট : ০১ মে ২০১৮, ০৩:০৮

ঝড়-বৃষ্টিতে গণসংযোগে ছন্দ পতন ঘটেছে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীদের। চলতি বছরে গতকাল সোমবার সকালে নগরীতে বছরের প্রথম কাল বৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে টাঙ্গানো প্রার্থীদের পোস্টার-লিফলেট ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া  গণসংযোগে অংশ নেওয়া মেয়র প্রার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তবে এ বিড়ম্বনা খুব বেশি বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ঝড়-বৃষ্টি থামার পর আবার তারা গণসংযোগ শুরু করেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগকালে মানুষের ঢল নামে।

এদিকে গতকাল সোমবার খুলনা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির (জাপা) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মেয়র প্রার্থী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। অপরদিকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে এনে নাগরিক সংগঠন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি আয়োজিত ‘আগামীর খুলনা নগরবাসীর প্রত্যাশা ; মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠান’ বর্জন করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকসহ বাকি চার মেয়র প্রার্থী উন্নয়ন কমিটির অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল সোমবার সকালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক নগরীর দৌলতপুরে গণসংযোগ ও তিনটি মতবিনিময় সভা করেন। সকাল ৮টায় তিনি দৌলতপুর থানার ৩নম্বর ওয়ার্ডের মুহসিন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এবং পরে সরকারি দৌলতপুুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মহেশ্বরপাশায় মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি মুহসিন মোড় ও সাতক্ষীরা সড়কে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। তার এসব মতবিনিময় ও গণসংযোগকালে মানুষের ঢল নামে। গণসংযোগকালে তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনার উন্নয়নে ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দল-মত ও ভেদাভেদ ভুলে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে তালুকদার খালেকের কর্মী-সমর্থকরা স্লোগান দেন। পরে তিনি খুলনা প্রেসক্লাবে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি আয়োজিত ‘আগামীর খুলনা নগরবাসীর প্রত্যাশা; মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে’ যোগ দেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজসেবা সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেছেন, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ের মূল কান্ডারি হবে আজকের তরুণ প্রজন্ম। তাদেরকে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচরণ বেশি থাকে, তাই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের কাছে আমাদের উন্নয়ন বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করার লক্ষ্যে দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের তথ্য প্রযুক্তি প্রচার সেলের এক সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক ও তথ্য প্রযুক্তি প্রচার সেলের সমন্বয়কারী মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল।

সুজিত রায় নন্দী আরও বলেছেন, খুলনার হারানো গৌরব ফিরে আনতে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তালুকদার আব্দুল খালেকের বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতি ধরে রাখতে এবং আধুনিক খুলনা গড়তে দেশরত্ন শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করতে হবে। তিনি বলেন, খুলনার সর্ব সাধারণ মানুষের কল্যাণে সর্বদায় নিবেদিত তালুকদার আব্দুল খালেক। বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা  ধরে রাখতে স্বাধীনতার স্বপক্ষের প্রার্থী, উন্নয়নের রূপকার, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেককে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

গতকাল সোমবার সারাদিন খুলনার সাবেক ছাত্রনেতাদের সঙ্গে নিয়ে আদালত চত্বর, হাসপাতাল পাড়া ও জেলখানা গেট এলাকায়, কেসিসি মার্কেট, বাংলাদেশ ব্যাংক, আহসান আহমেদ রোড, পিকচার প্যালেস মোড়সহ প্রভৃতি স্থানে জনসংযোগ ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জনসাধারণের হাতে নৌকা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন।

এর আগে তিনি বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি খুলনা জেলা ও মহানগর, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা ও মহানগর, ইসকন, বিভিন্ন মন্দিরের ভক্ত ও পূজারী, শীতলাবাড়ী ও মশ্বেপাশার বিভিন্ন মন্দিরে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে ব্যাপক গণসংযোগ করেন।

অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল, কাঁচা বাজার এবং সংলগ্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আজ্ঞাবহ আদালতকে ব্যবহার করে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিত্সায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে অবরুদ্ধ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামকে বেগবান করতে কেসিসি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠান বর্জন মঞ্জু’র

নাগরিক সংগঠন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তবে অন্য চার মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক, জাতীয় পার্টির (জাপা) এস এম শফিকুর রহমান (মুশফিক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মাওলানা মো. মুজাম্মিল হক ও সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ অনুষ্ঠান খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির মেয়র প্রার্থীর মিডিয়া উপ-কমিটির সদস্য সচিব এহতেশামুল হক শাওন জানান, অনুষ্ঠানের আয়োজক বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন গত রবিবার তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘খুলনার উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য আওয়ামী লীগ মনোনীত তালুকদার আব্দুল খালেকই যোগ্য প্রার্থী।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে বেসরকারি সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর আয়োজনে ‘জনগণের মুখোমুখি’ নামে একটি অনুষ্ঠানে পাঁচজন মেয়র প্রার্থীই উপস্থিত ছিলেন।

জাপা ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা

খুলনা মহানরীতে সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে প্রাধান্য দিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান ১৫ দফা এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মুজাম্মিল হক ২৫ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। খুলনা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

জাপা প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমানের (মুশফিক) নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, পরিকল্পনা ও পরামর্শক কমিটি গঠন, সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করা, মাদকাসক্তদের তাবলীগের সাথী করা এবং প্রতিটি থানায় নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তুলে ফ্রি চিকিত্সার মাধ্যমে মহানগরীকে মাদকমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা ইত্যাদি।

ইত্তেফাক/নূহু