বাগেরহাটের রামপালে ১০ টাকা কেজি দরের ১১শ' কেজি চাল আত্মসাতের অভিযোগে শেখ আলী আজম (৩৬) নামে এক ডিলারকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গিলাতলা বাজার থেকে তাকে আটক করে।
শেখ আজম গিলাতলা গ্রামের আ. রব শেখের ছেলে এবং ১০ টাকা কেজি দরের চালের ডিলার। পুলিশ আজ বুধবার দুপুরে তাকে বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ করেছে।
রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পাল বলেন, গোপন খবরের ভিত্তিতে গুদামে অভিযান চালিয়ে হিসাব করে ২২ বস্তা (১১শ' কেজি) চাল কম পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান জানান, আজ সকালে খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে ডিলার আজমের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি দিয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। আমরা আজমকে আদালতে সোপর্দ করেছি। মামলাটিকে দুদক তদন্ত করবে।
এদিকে ডিলার আজমের স্ত্রী আকরুমা বেগম তার স্বামীকে দিনমজুর দাবি করে বলেন, আমার স্বামী নির্দোষ। সে চাল আত্মসাতের সাথে জড়িত নয়। বাসতলী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মল্লিক মিজানুর রহমান আমার স্বামীর নামে ডিলারশিপ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে চালের ব্যবসা এবং ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল আত্মসাৎ করে আসছে। এ প্রতারণায় শেখর বালা নামে এক ব্যক্তি টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে। বিভিন্ন সময় শেখর এ চাল কিনে নিয়ে যায়।
বাশতলী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মল্লিক মিজানুর রহমান বলেন, 'আমি এ চালের ব্যবসার সাথে জড়িত না। তবে কেউ ডাকলে মেম্বার হিসেবে সেখানে যাই।' এ ব্যাপারে শেখর বালাকে ফোন করা হলে শেখর বালা সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরে মুঠোফোনটি বন্ধ করে রাখেন।
রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাওলাদার হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা সবাই জানতাম মিজান মেম্বার এ চালের ডিলার। কিন্তু নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসি সাহেব আসার পরে জানতে পারলাম দিন মজুর আলী আজম এ চালের ডিলার। এ চাল আত্মসাতের সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের বিচার দাবি করেন সরকার দলীয় এ নেতা।
ইত্তেফাক/এসএস
