যশোরের বাঘারপাড়ায় গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। বাঘারপাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২৫৮টি পরিবার পাচ্ছে আধাপাকা ঘর। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে এসব ঘর। অপরগুলোর নির্মাণ কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। ঘর পেয়ে আনন্দে ভাসছে গৃহহীন পরিবারগুলো। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় নেয়া হয় গৃহনির্মাণ প্রকল্প। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে প্রথমে জমি আছে ঘর নাই এমন ১৩২টি পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেয়ার কাজ চলছে। এর মধ্যে জহুরপুর ইউনিয়নে ২১টি, বন্দবিলায় ২৫টি, রায়পুরে ৩২টি, নারিকেলবাড়িয়ায় ২৫টি, ধলগ্রামে ২৮টি ও দোহাকুলা ইউনিয়নে একটি পরিবারকে এ ঘর দেয়া হয়েছে।
প্রতিটি ঘর নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক লাখ টাকা। এ পর্যন্ত প্রায় ১১২টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। উপজেলায় আরও ১২৬টি ঘরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকটি ঘর হস্তান্তরও করা হয়েছে।
IMG0
ঘর পেয়ে খুশি বন্দবিলা ইউনিয়নের বড়খুদরা গ্রামের মৃত ফারুক হোসেনের স্ত্রী ভিক্ষুক আয়তন নেছা। তিনি বলেন, ‘এখন আর বৃষ্টিতে ভিজে ঘুমাতি হবিনা। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই ঘর স্মৃতি হয়ে থাকপি।’ তার মতো আনন্দে ভাসছেন একই ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের হেলেনা বেগম। তিনি বলেন, এতদিন সোলার (পাটকাঠি) ঘরে থাকতাম। আমার একটি পাকা ঘর হবে, কল্পনাও করিনি। একই কথা জানালেন গোলাপী খাতুন নামের আরেক নারী। তিনি জানান, জীবনে ভাল কোন ঘরে ঘুমাতি পারিনি। বাকি জীবনটা অন্তত ভাল একটি ঘরে কাটাতি পারবো।
নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তাহের আবুল সরদার বলেন, ঘর পেয়ে খুশি হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ঘর নির্মাণ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানাজ বেগম বলেন, প্লান ও ডিজাইন অনুযায়ী ঘরগুলি নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজ সঠিকভাবে করার জন্য কমিটির সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত দেখভাল করছি। দ্বিতীয় কিস্তিতে বরাদ্ধ পাওয়া ১২৬টি ঘরের কাজও শুরু হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ হবে।
ইত্তেফাক/ইউবি
