মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর নির্দেশ সত্যেও দীর্ঘ ২ বছর পরেও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সাকোকাঠি ও শাহজিরা গ্রামের ৫ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গেজেট আজও বাতিল হয়নি। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা তাদের ভাতাও বন্ধ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপজেলার সাকোকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ও মুক্তিযুদ্ধকালিন ৯নং সেক্টরের সাব-সেক্টরের সেকেন্ড ইন কমান্ড বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব) এমএ হক বীর বিক্রম, একই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব খান, শাহজিরা গ্রামের বাসিন্দা ও শরিকল ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আ. রহিম সরদারসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সাকোকাঠি গ্রামের মোতালেব শিকদার, তাজেম আলী চৌকিদার, খালেক মোল্লা ও সাহজিরা গ্রামের আ. রহমান খান, মোবারেক হোসেন হাওলাদার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করছেন। তাদের ভাষ্যমতে, এরা কেউই ৭১ সালের মহান যুদ্ধে অংশ নেন নাই বা মুক্তিযোদ্ধাদের কোন ধরনের সহায়তা করেন নাই। আর তাজেম আলী চৌকিদার ছিলেন একজন রাজাকার।
জানাগেছে, ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সাকোকাঠি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব খান ওই ৫ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গেজেট ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাতিলের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তিনি জানান, এরা ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাতা তুলছেন। অভিযোগ পেয়ে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০১৬ সালের ৭ মার্চ বরিশালের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ প্রদান করেন।
খবর নিয়ে জানাগেছে, মন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে বিষয়টি তদন্ত করে তৎকালিন গৌরনদীর নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুবুর রহমানকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। তবে নির্বাহী অফিসার নিজে তদন্ত না করে দায়িত্ব দেন উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদের ওপর। কিন্তু সমাজ সেবা কর্মকর্তা নানান তালবাহানা করে বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপণ করে আজও রিপোর্ট প্রদান করেন নি।
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি জটিল হওয়ায় আমি তদন্ত করতে অপারগতা প্রকাশ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত মতামত ব্যক্ত করেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন বলেন, কিছুদিন আগে আমি এ বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে বিষয়টি অনেক আগের, তারপরেও তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
