রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা এবং বাশগাঁড়ি ইউনিয়ন থেকে পরপর ছয় বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল হক (৭০) সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় তার নিজ ইউনিয়নের আরাকান্দা সড়কের ওপর তিনি গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল সোয়া তিনটায় তিনি মৃত্যুবরন করেন। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়পুরা উপজেলা পরিষদে কাজ শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন সিরাজুল হক। পথে আরাকান্দা গ্রামের সড়কে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা গুলি করে পালিয়ে যায়। তার আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সিরাজুল হককে বহনকারী এ্যাম্বোলেন্সে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। এখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন।
তার মৃত্যুতে রায়পুরা সদর ও বাশগাঁড়ীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রায়পুরা থেকে নির্বাচিত সাংসদ ও সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবির কাউছার চেয়ারম্যান সিরাজুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
রায়পুরা থানা পুলিশ জেলা হাসপাতাল থেকে তার লাশ সুরতহাল করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, এই ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। একটি গ্রুপের নেতা সাবেক চেয়ারম্যান সাহেব সরকার অতি সম্প্রতি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন সিরাজুল হক চেয়ারম্যান। আজ তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের দাফনের পর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
