দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের দক্ষিণ নশরতপুর গ্রামে এমএসবি ব্রিক্স নামের ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের অন্তত ১০০বিঘা ক্ষেতের বোরো ধান এবং ভূট্টা ঝলসে গেছে। এ ঘটনায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রবিউল ইসলাম তালুকদার বলেন, প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হওয়ায় এবার ধান ও ভূট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দেয়। কিন্তু ধানের শীষ ও ভূট্টা মোচা বের হওয়ার পর থেকে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ধানের শীষ ও ভূট্টা মোচা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে আবাদ খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। দুর্যোগ না হওয়ায় এ বছর প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০মণ ধান হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ইটভাটার কারণে তার ১০ বিঘা জমির বোরো ধানের গাছ ও শীষ মরে যাচ্ছে।
সুনিত চন্দ্র রায় বলেন, জমিজমার আবাদ দিয়েই সংসার চালাতে হয়। ধার-দেনা নিয়ে ৩ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করলেও ইটভাটার ধোঁয়ায় ক্ষেতের ধান শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। ফসল থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ধার-দেনা পরিশোধ নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
কৃষাণী জোৎস্না রাণী বলেন, ১০ হাজার টাকায় অন্যের ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করছেন। ইটভাটার ধোঁয়ায় পুরো ক্ষেতের ধানগাছ ঝলসে যাওয়ায় ফসল পাওয়ারও আশা নেই।
ইউপি সদস্য মোখলেসুর রহমান বলেন, এ বছর তার ১ বিঘা জমির বোরোধান নষ্ট হয়ে গেছে। ওই ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ২০১৫ সালে এলাকার বিভিন্ন ফসলসহ আম, কাঁঠাল, ভূট্টা, আমড়া পুড়ে যায়। স্থানীয় কৃষকরা ফসল রক্ষার জন্য ফসলের ক্ষতিপূরণসহ ইটভাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
নশরতপুর ইউনিয়নের কর্মরত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ বলেন, স্থানীয় কৃষকরা ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসল নষ্ট হওয়ার দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত প্রকৃত ফসল নষ্ট হওয়ার হিসাব করা যায়নি।
এমএসবি ব্রিক্সের সত্বাধিকারি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে ফসলের ক্ষতির বিষয়টি জানার পর কৃষকদের প্রকৃত ক্ষতির হিসাব নির্ধারণের কাজ চলছে। হিসাব পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, চলতি বছর উপজেলায় ১৮ হাজার ৭০৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১৮ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে। ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসলের ক্ষতি হওয়ার বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাকে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইটভাট বন্ধের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের।
ইত্তেফাক/নূহু
