কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোমবার ভোর ৪টা থেকে এক ঘন্টার ঝড়ে ৩টি চাতালকলসহ অর্ধ শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।উপরে গেছে শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন।এদিকে এক রাজনৈতিক নেতার তোরণ ধ্বসে পড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় ১ ঘন্টা বন্ধ ছিল যান চলাচল।মহাসড়কে সৃস্টি হয় তীব্র যানজট। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর ৪টায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উপজেলার দূর্গাপুর, তাজপুর ও খড়িয়ালা গ্রামের ৩টি চাতালকল, একটি তুলার গুদামসহ অর্ধ শতাধীক আধাপাকা ও টিনসেড ঘর। এসব ঘরের চালা উড়ে গেছে এবং মালামাল দুমড়েমুচড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে এই অর্ধ শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ২ শতাধিক বনজ ও ফলদ গাছ ভেঙ্গে উপড়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়ছে।
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর গ্রামের ইসহাক মিয়া বলেন, কিভাবে বেঁচে আছি বলতে পারব না। কারণ আমার বাড়ির প্রায় দেড়শ ফুট উঁচু দুটি গাছ বিকট শব্দ উপড়েপড়ে তিনটি বসত ঘরসহ ৪টি ঘরের ওপর পড়ে। ঘরগুলো দুমড়েমুচড়ে যায়।এতে ঘরের কিছুই ব্যবহার করার মত উপযুক্ত নেই।
খড়িয়ালা গ্রামের মদিনা বেডিং স্টোরের মালিক তৌফিক হোসেন বলেন, আমার গোডাউনের শতকরা ৭০ভাগ তুলা ঝড়ে উড়ে গেছে। আমি এসব মালামাল ব্যংক থেকে ঋণ নিয়ে কিনেছিলাম। আমার পথে বসা ছাড়া কোন উপায় নাই। একই কথা বলেন অন্য ক্ষতিগ্রস্তরা।তারা এব্যাপারে প্রশাসন তথা সরকারের দ্রত সহযোগিতার দাবী করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা মৌসুমী বাইন হীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি
এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের বলেন, সরেজমিনে দেখে মনে হচ্ছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হয়েছে। একটি মসজিদসহ ১৮টি পরিবার বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
