পিরোজপুর কাউখালী উপজেলার দাশেরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মুক্তা আক্তার (১৩) হত্যার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার মূল আসামি বখাটে পারভেজকে এখনো গ্রেফতার করতে পরেনি পুলিশ। সেই সঙ্গে খুনের কারণও উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ৩০ এপ্রিল সোমবার রাতে দাশেরকাঠি গ্রামের খাল থেকে মুক্তা আক্তার (১৩) নামের এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মুক্তার মা শানু বেগম জানান, সোমবার দুপুরে ঝড় হয়। দুপুর ১২টার দিকে মুক্তা বাড়ির পাশের বাগানে আম কুড়াতে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। তার নিখোঁজের সংবাদ এলাকায় মাইকিং করেও জানানো হয়। ওইদিন রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশের দাশেরকাঠি খালে একটি লাশ ভাসতে দেখে এলাকার লোকজন। খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশটি মুক্তা আক্তারের বলে শনাক্ত করা হয়।
মুক্তার বাবা হিরু মহাজনের ভাষ্য, প্রতিবেশী পারভেজ মহাজন তাঁর মেয়েকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো। পারভেজ ও তাঁর চাচাতো ভাই সোহেল মুক্তাকে হত্যা করে খালে লাশ ফেলে দিয়েছেন বলে তাঁর সন্দেহ।
লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ১ মে মুক্তার মা শানু বেগম বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩/৪জনকে আসামি করা হয়। ওইদিন এজাহারভুক্ত আসামি সোহেল মহাজনকে (৩৩) গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্ত সোমবার ৭মে পর্যন্ত পারভেজকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে স্কুলছাত্রী মুক্তার হত্যার খুনিদের গ্রেফতার ও দৃস্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে দাশেরকাঠী গ্রামের বাসিন্দা ও তার বিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলে, কাউখালীতে এতো সংগঠন কিন্তু দুধর্ষ সন্ত্রাসী পারভেজের শাস্তির দাবী জানিয়ে কেউ প্রতিবাদ বা মানববন্ধন করেনি!
হত্যাকারী পারভেজের বিরুদ্ধে কাউখালীতে দিনে-দুপুরে এনজিও আশার মাঠকর্মীকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই এবং ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই আশ্রম রোডে বোমা ফাটিয়ে ব্যবসায়ীদের টাকা ছিনতাই এবং মোটরসাইকেল চুরিসহ একাধিক মামলার আসামি।
এ ব্যাপারে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, পারভেজকে ধরতে পুলিশ জেলা ও জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু
