মির্জাপুরে বিদ্যালয়ের ছাত্রদের নির্মমভাবে পিটিয়েছে শিক্ষক, এলাকায় উত্তেজনা

আপডেট : ০৮ মে ২০১৮, ১৮:২৭
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেত দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত করেছে কয়েকজন শিক্ষক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে পার্টটাইম শিক্ষককদের বেদম প্রহারে ছাত্ররা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
 
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বরাটি নরদানা বাংলাদেশ উচ্চ (বিএনবি) বিদ্যালয়ে এ অমানবিক ঘটনা ঘটেছে।
 
শিক্ষকদের বরখাস্ত এবং দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে কয়েক গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এলাকায় বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
 
আজ মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে এবং অসুস্থ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
 
জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল বিদ্যালয়ে বেঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে আগধল্যা ও শুভুল্যা গ্রামের ছাত্রদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন মল্লিকের নির্দেশে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (পার্টটাইম) মো. মারুফ হোসেন ১০ম শ্রেণীর ছাত্র আশরাফ ও নবম শ্রেণীর ছাত্র সাহাদতসহ বেশ কয়েকজনকে বেত দিয়ে এলোপাথারি পিটিয়ে রক্তাক্ত করলে তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই ঘটনা দুই গ্রামের অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পরলে আরও উত্তেজনা দেখা দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৭-৮ দিন ধরে বিদ্যালয় ও এর আশাপাশের কয়েক গ্রামের মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা। যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে এই আশংকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
 
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য মো. শুকুর আলী ও মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অদক্ষ প্রধান শিক্ষকের কারনে বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও নানা অনিয়ম চলে আসছে। প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন মল্লিক এই ঘটনা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের ঘটনা অবহিত না পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে আগধল্যা ও শুভুল্যা গ্রামে হানা দিয়ে নিরীহ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। এই ঘটনা আশপাশের কয়েকটি গ্রামের অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পরলে আরও উত্তেজনা দেখা দেয়।
 
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন মল্লিক ও মারুফ হোসেনসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বহিস্কারসহ দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবীতে আগধল্যা, শুভুল্যা ও উফুল্কীসহ কয়েকটি গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
 
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন মল্লিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ও তার সহযোগীদের অনিয়ম দুর্নীতির কারনে বিদ্যালয়ে অচলাবস্থা এবং একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। তাকে বহিস্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যেতে দেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষুব্দ এলাকাবাসী।
 
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন মল্লিকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে কল দিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন সিরিভ করেননি।
 
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মারুফ হোসেন বলেন, ঐ দিনের ঘটনার পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে আমি ছাত্রদের শাসন করেছি।
 
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার পুলিশের উপ পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রেখেছি। প্রধান শিক্ষক ঘটনার দ্রুত মিমাংসা করবেন বলে আশ্বাস দেওয়ায় কাউকে আটক করা হয়নি।
 
ইত্তেফাক/নূহু