গোপালগঞ্জে ডায়রিয়া পরিস্থিতি এখন তীব্রতায়

আপডেট : ০৯ মে ২০১৮, ১৬:৫৯
গোপালগঞ্জে ডায়রিয়া পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে সিট না পেয় রোগীরা রারান্দা, ফ্লোর, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বাইরে রোগীদের রেখে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। কোন কোন বেডে দুইজন রোগী গাদাগাদি করে অসহনীয় পরিবেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
 
দিনে ১ বার চিকিৎসকরা ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এসে  দায়সারাভাবে চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। প্রচণ্ড গরম ও খানার পানিতে লবণ চলে আসায় গোপালগঞ্জ শহরের পাশাপাশি টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া, মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে বলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছেন। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছেন।
 
গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে গত ৭ দিনে গোপালগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলায় ৫১০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৫টি সিট রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন ৩০/৩৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন।
 
রোগী রুহুল আমিন (৪৫) বলেন, দিনে ২ বার চিকিৎসকের আসার কথা। কিন্তু আসছেন মাত্র একবার। তারা দায়সারা চিকিৎসা দিচ্ছেন। জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রোগী মাসুদা বেগম (২০) বলেন, ভর্তির সময় জরুরি বিভাগ থেকে যে ব্যবস্থাপত্র দেয়া হচ্ছে, নার্স সে ভাবেই চিকিৎসা করছেন। ডাক্তাররা আসছেন কম। এখানে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
 
গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, প্রচণ্ড গরম, পানিতে লবণ ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য জেলার মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা সাধ্যমতো চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। নিরাপদ পানি পান ও খাবার গ্রহণ করা হলে ডায়রিয়া কমবে। এ ছাড়া বৃষ্টিপাত হলো ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
 
গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে একটু নোংরা থাকতে পারে। আমরা লোকবল দিয়ে পরিষ্কার করে দিচ্ছি। দিনে দু’বার চিকিৎসকরা রাউন্ডে যাচ্ছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডায়রিয়ার ওষুধ মজুদ রয়েছে। এখান থেকে তাদের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/এসএস