টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক পরিবারের সাতজনকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে একটি দুষ্কৃতকারি চক্রের বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেলে সখীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রতিবেশীরা ওই পরিবারের সবাইকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শনিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এরা হচ্ছেন আবদুর রহিম তালুকদার (৭০), তার স্ত্রী জায়দা বেগম (৫০), তার ছেলে কলেজ ছাত্র ইমরান (২৫), তার দুই মেয়ে স্কুলছাত্রী তাহমিনা (১৬) ও তাহেরা (১২) এবং তার ভাই লোকমান তালুকদারের স্ত্রী বেগম (৫০) ও ভাতিজা কলেজছাত্র বুলবুল আহমেদ (২৬)।
এলাকাবাসী, হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের দিকে ওই বাড়িতে অপরিচিত এক যুবক তার কানে পোঁকা বা পিঁপড়ে ঢুকেছে বলে তা বের করতে তেল চান। এক পর্যায়ে ওই যুবক তেল নিতে রান্না ঘরে ঢুকে পড়েন। পরে তাকে তেল দেয়া হলে সে চলে যায়। এ সময় রান্না ঘরে কেউ ছিল না। বাড়ির সবাই দুপুরের খাবার খাওয়ার পর বিকেল থেকেই একে একে সবাই ঘুমে অচেতন হয়ে পড়ে।
প্রতিবেশীরা এ খবর জানার পর রাত প্রায় আটটার দিকে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহিদ হাসান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে একটি দুষ্কৃতকারি চক্রের সদস্যরা নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে সবাইকে অচেতন করে বাড়ির মালামাল লুট করে নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তেল নেয়ার ছুতো দেখিয়ে রান্না ঘরে ঢুকে সে খাবারের মধ্যে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে দিয়ে গেছে। সেই খাবার খেয়ে সবাই অচেতন হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজিয়া সুলতানা বলেন, রোগীদের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদিকে সবাই অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে সখীপুর থানার ওসি এসএম তুহীন আলী বলেন, ঘটনা শুনে ও খোঁজ-খবর নিতে গৃহকর্তার বাড়ি ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল।
তবে তিনিও দুষ্কৃতকারী চক্রের সদস্যরা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে বলে ধারণা করছেন জানিয়ে বলেন, পরিবারের সবাই অচেতন থাকায় এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি বলে ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে জানান। তারা সুস্থ হয়ে অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।
ইত্তেফাক/কেআই
