নাগরপুরে ৪দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই

আপডেট : ১৩ মে ২০১৮, ১৬:২০
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার প্রায় ৮-১০টি গ্রাম ৪দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন। উপজেলার সরিষাজানী, পুগলী, ভারড়া, বাটরা, সিংদাইর, বেতো, শুনসিসহ ৮-১০টি গ্রাম বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এর মধ্যে সরিষাজানী ও পূগলী গ্রামে গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা ৪দিন ধরে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিদ্যূৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ ব্যাপারে গ্রাহকরা টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যূৎ সমিতির নাগরপুর জোনাল অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও কোন প্রকার সুফল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে।
 
আকাশে মেঘ, পড়ার টেবিলে মোম এ হচ্ছে নাগরপুরের বিদ্যুতের অবস্থা। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার সাথে সাথে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাগরপুর জোনাল অফিসের সকল গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হলেও তা কোন কোন গ্রামে ঘন্টার পর ঘন্টা, এমনকি দিনের পর দিন বন্ধ রাখা হয়ে থাকে বলে এলাকার গ্রাহক সূত্রে জানা যায়।  
 
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যূৎ সমিতির নাগরপুর জোনাল অফিসের আওতায় প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। পরিবেশ শান্ত রাখতে উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া হলেও গ্রামগঞ্জের লাখো গ্রাহককে বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ।
 
গয়হাটা ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হাকিম জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে রবিবার পর্যন্ত টানা ৪ দিন সরিষাজানী ও পূগলী উত্তরপাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এ দুটি গ্রামে ৪দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় দুটি গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ অন্ধকারে জীবন-যাপন করছে এবং স্কুল কলেজে পড়ুয়া বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
 
তিনি আরো বলেন, আমাদের গ্রামের বিদ্যুতের যে অবস্থা এ দিকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। অপরদিকে নিয়মিত মোম ও কেরোসিন ব্যবহার করতে হচ্ছে। আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ থাকা আর না থাকা প্রায় সমান।   
 
একাধিক গ্রাহক আক্ষেপের সুরে আরো বলেন, যে কোন সমস্যা নিয়ে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাগরপুর জোনাল অফিসে গ্রাহকদের সেবায় নিয়োজিত জরুরী নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে বেশির ভাগ সময় বন্ধ অথবা বিজি পাওয়া যায়। জরুরী নাম্বারে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়ে অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সুফল পাওয়া যায় না।
 
এ ব্যপারে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাগরপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমাদের অফিসের আওতায় প্রায় ৬০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঝড়ের কারনে গাছপালা উপড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। ফলে গ্রাম এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া আমার অফিসের আওতায় গ্রাহকের তুলনায় জনবল কম হওয়ায় এ অফিসে কর্মরত প্রত্যেকে ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত  কাজ করে যাচ্ছি।
 
তিনি আরো বলেন, উপজেলার প্রতিটি গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রাখতে আমি নিজেও আমার অফিসের লোকজনদের নিয়ে গ্রামেগঞ্জে গিয়ে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছি।
 
ইত্তেফাক/নূহু