প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে দীর্ঘ ৬ ঘন্টা সড়ক অবরোধ

আপডেট : ১৪ মে ২০১৮, ২১:১৪
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া কোটা বাতিল বিষয়ক ঘোষণার প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় দীর্ঘ ছয় ঘন্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে আন্দোলনকারীরা। সোমবার দুপুর ১টা হতে সন্ধা ৭টা পর্যন্ত সহস্রাধিক ছাত্রছাত্রী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে এই অবরোধ করে। সন্ধা ৭টার সময় প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত দেশের সকল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি শেষ করে। 
 
এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে (ঢাবি) বিক্ষোভ করতে থাকে এবং কলা ভবন ও ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে হাজারো আন্দোলনকারী এসে জড়ো হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা স্লোাগান দিয়ে বের হতে থাকেন। 
 
আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েকবার মিছিল নিয়ে প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে টিএসসি, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্ত্বর, কার্জন হল এলাকায় যায়। পরে সেখান থেকে হাইকোর্ট মোড়, কদম ফোয়ারা, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট পার হয়ে বেলা ১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এতে শাহবাগ হতে ফার্মগেট-মতিঝিল-সাইন্সল্যাব-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়ে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্য রওনা হওয়া যাত্রীরা। আন্দোলনকারীরা কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন। 
 
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আসিফুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিল ঘোষণা করলেও, তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়নি। আমরা এজন্য বারবার সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। এজন্য আমরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছি। 
 
আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান  দিতে থাকে। এগুলো ছিল- ‘আর নয় কালক্ষেপণ, এবার চাই প্রজ্ঞাপন’, ‘প্রজ্ঞাপনে তালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘দাবি মোদের একটাই, প্রজ্ঞাপন প্রজ্ঞাপন’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দিব না’, ‘লেগেছে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’ ইত্যাদি। 
 
সন্ধ্যা ৭টার দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহীর কথায় বিশ্বাস রেখে আমরা আজকের মতো কর্মসূচি শেষ করছি। তবে আমাদের সকল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন থাকবে। আশা করি আমাদের মমতাময়ী মা ছাত্র সমাজের ঘোষণা অচিরেই বাস্তবায়ন করবেন।
 
তিনি আরও বলেন, কোটা সংস্কার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রজ্ঞাপন না হওয়া এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোটা সংষ্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্র সমাজ ফুঁসে উঠে। ছাত্র সমাজের কাছে প্রজ্ঞাপন হবে কি না তা নিয়ে সংশয় কাজ করেছে। যে কারণে আমরা বারবার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের সঙ্গে ওইভাবে যোগাযোগ করা হয়নি। 
 
নুরুল হক নুর বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা একটা বিষয় জানতে পেরেছি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে যেটা বলেছেন সেটা করবেন। স্পষ্ট বলতে চাই, আমরা কখনও কোটার বাতিল চাইনি, আমরা সংস্কার চেয়েছি। সেখানে আমরা পাঁচটি দফা দিয়েছি। কোটা সংস্কার হলে পাঁচ দফার আলোকে সংস্কার হতে হবে। আর বাতিল হলে বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। তবে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০শতাংশ করার দাবি থেকে সরে এসে তারা ১৫শতাংশ কোটা রাখার পক্ষে বলে উল্লেখ করেন। এসময় তিনি বলেন, আমরা সরকারের বিরোধী নয়, আমরা সরকারের উন্নয়নের সহযোগী।
 
প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অন্য দাবিগুলো ছিল- কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া, চাকরি নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা, কোটায় কোন ধরণের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না দেয়া এবং চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাট মার্কস ও বয়সসীমা করা। 
 
ঢাবির ১ বিভাগ ব্যতীত সকল বিভাগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিলেও সকাল থেকে  বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কয়টি বিভাগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ টি বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের পরীক্ষা ছিল। এর মধ্যে শুধুমাত্র গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একটি বর্ষের পরীক্ষা ছাড়া বাকি ২৯ বিভাগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু