ময়মনসিংহের গৌরীপুর-জারিয়া রেলপথে বুধবার জারিয়াগামী বলাকা কমিউটার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মইলাকান্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পরিমল চন্দ্র মোদক (৬৫) আত্মহত্যা করেছেন। অপরদিকে মাছ ধরে বাড়ি ফেরার সময় একই রেলপথে পূর্বধলার উপজেলার ঝিনাইকান্দি নামক স্থানের ট্রেনের ধাক্কায় আব্দুল কাইয়ুম (৩৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বলাকা কমিউটার ট্রেনটি বুধবার সকালে শ্যামগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে জারিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছিল। শ্যামগঞ্জ বাজার অতিক্রম করার সময় মইলাকান্দা ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পরিমল মোদক চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। এতে ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান।
ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা জানান, কিছুদিন যাবৎ তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে তার মানসিক অবস্থাই তাকে আত্মহত্যার পথে নিয়ে যায়।
গৌরীপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল গিয়ে আহত পরিমল বাবুকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি। সেখানে তিনি মারা যান। কিন্তু কি কারণে তিনি ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়েছে সেটা সঠিক বলতে পারছি না।
অপরদিকে পূর্বধলা উপজেলার ঝিনাইকান্দি গ্রামের কৃষক আব্দুল কাইয়ুম (৩৮) মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পথে গৌরীপুর-জারিয়া রেলপথে ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। তিনি ঝিনাইকান্দি গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র।
এলাকাবাসী জানায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রেললাইন ধরে আব্দুল কাইয়ুম বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় গৌরীপুরগামী ট্রেনটি পিছন দিক আসলেও খেয়াল করেনি। ট্রেনের ধাক্কায় হাত, পা ভেঙ্গে যায়, মাথাও থেঁতলে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ইত্তেফাক/নূহু
