নবীগঞ্জে শাশুড়ি ও পুত্রবধূ খুনের কারণ সুন্দরী পুত্রবধূকে ধর্ষণ চেষ্টা

আপডেট : ১৭ মে ২০১৮, ২০:৪১
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শাশুড়ি ও পুত্রবধূকে খুনের ঘটনার নেপথ্যে মূল কারণ লন্ডন প্রবাসীর সুন্দরী স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা। চাকু দিয়ে ভয় দেখিয়ে শাশুড়িকে বেঁধে রাখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাড়িতে প্রবেশের পর সে পরিকল্পনা কাজে আসেনি তাদের। তখন শাশুড়িকে চাকু দিয়ে একাধিক আঘাত করে হত্যা করে খুনিরা। তার চিৎকারে পুত্রবধূ এগিয়ে এলে তাকেও উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলে তিনিও মারা যান।
 
বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের এমন লোমহর্ষক তথ্য দেয় গ্রেফতারকৃত মোঃ তালেব ও জাকারিয়া আহমেদ শুভ। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্পা জাহান।
 
বিকেল সাড়ে ৫টায় নিজ কার্যালয়ে গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেয়া জবানবন্দি সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। তিনি জানান, আসামিদের দেয়া তথ্যে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু, আসামিদের রক্তমাখা জামা কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে।
 
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ১১ মে তালেব, শুভ ও তাদের অপর এক বন্ধু লন্ডন প্রবাসী আখলাক চৌধুরীর স্ত্রী রুমি বেগমকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী ঘটনার রাতে তালেব পূর্ব পরিচিতির সুবাদে ঘরে ঢুকতে চাইলে প্রবাসী আখলাক চৌধুরীর মা মালা বেগম গেইট খুলে দেন। এ সময় তার সাথে শুভকে দেখে তার পরিচয় জানতে চান। কিন্তু তালেব কোন উত্তর না দিয়ে চাকু দিয়ে মালা বেগমকে হত্যার ভয় দেখায়। তিনি চিৎকার শুরু করলে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত শুরু করে। আঘাত পেয়েও তিনি দৌড়ে একটি কক্ষে ঢুকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন।
 
এ সময় শাশুড়ির চিৎকার শুনে দৌড়ে তাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গেলে রুমি বেগমকে নিজের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে শুভ আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর তারা পালিয়ে যায়। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের দুইজনসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তালেব ও শুভ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
 
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসম শামছুর রহমান ভূঁইয়া, সহকারি পুলিশ সুপার পারভেজ আলম, সহকারি পুলিশ সুপার সদর মো. নাজিম উদ্দিন, ডিএসবির ডিআইও (১) মো. মাহবুব আলম, ওসি ডিবি মো. শাহ আলম প্রমূখ।
 
উল্লেখ্য, নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামে গত ১৩ মে লন্ডন প্রবাসী আখলাক চৌধুরীর মা মালা বেগম ও স্ত্রী রুমি বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় রুমি বেগমের বড় ভাই ডা. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
 
ইত্তেফাক/নূহু