পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের কামারডাংগা-চরপাড়ার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে একটি ছোট নদী। এর উপর একটি বাঁশের সাঁকো। তার উপর দিয়ে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলাচল করে ৯ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সাঁকোটি। মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের।
চরপাড়া, দাসপাড়া, বেড়পাড়া, মুন্সীপাড়া, ফারাদপুর, কামার ডাংগা, ঢালি পাড়া, মোল্লা পাড়া, শাঁখারী পাড়ার মানুষ এ সাঁকোর উপর দিয়ে যাতায়াত করেন। নদীতে ব্রিজ না থাকায় গ্রামের জনগণকে ১ হাজার ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো দিয়েই রাত-দিন যাতায়াত করতে হয়।
পার হয় এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, দিনমজুরসহ স্থানীয় জনগণ। দীর্ঘদিন ধরে এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে ভুক্তভোগী জন সাধারণ, অসুস্থ ব্যাক্তিদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। একজন বললেন, এ বাঁশের সাঁকো উপর দিয়ে চলতে গিয়ে মাঝে-মধ্যে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে স্কুলের কমলমতি শিক্ষার্থীরা।
চরপাড়া গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুল গফুর প্রামানিক জানান, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত এখানে কোন ব্রিজ তৈরি হয়নি। বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করার জন্য বাড়ি বাড়ি থেকে বাঁশ ও টাকা তুলে তারা। প্রতি বছর এ বাঁশের সাঁকো তৈরি করা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। তাদের এই দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই। নির্বাচনের সময় আসলেই বিভিন্ন প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পরবর্তীতে ব্রিজ নির্মাণে তাদের আর খোঁজ থাকে না। সাঁকো নির্মাণের জন্য অর্থ চাইলেও তাদের কাছ থেকে কোন সহযোগিতা পাওয়া দূরের কথা, কথাই বলতে চান না।
সাদুল্লাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস মুন্সি জানান, ব্রিজটি নির্মাণের জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতেই ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
