শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ধনাইয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটি বর্ষা মৌসুম এলেই মানুষের হাঁটাচলাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে অনপুযোগী হয়ে পড়ে। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ৭/৮টি গ্রামের লোকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এই রাস্তা দিয় বর্ষাকালে কৃষকদের ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যেতে হয় এই কাচাঁ রাস্তাটি ব্যবহার করে। এছাড়াও রাস্তাটির দুই পাশে রয়েছে পোল্ট্রি খামার, স্কুল, মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ বাড়িঘর।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাল মাটির রাস্তাটি হাঁটু সমান কাদায় ভরে গেছে। যানবাহন চলা দূরের কথা এলাকার পথচারীরা চলাচল করতে পারে না। দুই একটি যানবাহন চলাচল করলেও প্রায় সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
রাস্তাটির দুই পাশে ৩০/৪০টি পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এই খামারগুলোর খাদ্য সরবরাহ করা, মুরগীর ডিম, বাচ্চা ও মুরগী বিক্রি করতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে খামারীদের। পাইকাররা এখানে মুরগী ও ডিম কিনতে আসতে চায় না। এই রাস্তাটি না হওয়ার ফলে বিকল্প রাস্তা দিয়ে প্রায় ৪/৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে কৃষকদের তাদের ধান, সবজী, কাঠাল, লটকন বাজারে নিয়ে যেতে হচ্ছে। আসা-যাওয়া থেকে আনা পণ্যের পরিবহন খরচ ও শ্রমিক খরচ দ্বিগুন হয়ে পড়ছে।
মসজিদের ইমাম, আ. কাইযুম বলেন, একটু বৃষ্টি হলে মসজিদে মুসুল্লিরা আসেত চায় না। অনেক সময় আমাকে একা নামাজ পড়তে হয়।
বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মাসুদ মিয়া বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার শিক্ষাথীরা বেশীর ভাগ অনুপস্থিত থাকে।
কৃষক চান মিয়া বলেন, আমরা অনেক বছর এই রাস্তাটি দিয়ে কষ্ট করে চলাচল করে আসছি, বুড়ো হয়েও কষ্ট করতে হয়, এই কাঁচা রাস্তটির জন্য।
আফছার উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. রিজভী ও শাহিনুর বলেন, আমরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারি না এই রাস্তাটির জন্য। এই রাস্তাটি হলে আমাদের এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ভাল হয়।
স্থানীয় এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আমি ধনাইয়া পশ্চিম পাড়ায় গিয়ে রাস্তাটি দেখেছি। এলাকাবসীর সাথে আমার কথাও হয়েছে। প্রথম তালিকায় এই রাস্তাটির নাম দেওয়া হয়েছে। খুব শীগ্রই রাস্তাটির কাজ শুরু হবে।
উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. নাদিম সরকার বলেন, স্থানীয় এমপিকে আমি দেড় বছর আগেই বলেছি এই রাস্তাটি করে দেওয়ার জন্য।
ইত্তেফাক/নূহু
