জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন বলেছেন, একজনের প্রভাব-প্রতিপত্তিতে আরেক জনের জীবনকে দুর্বিসহ হয়ে উঠবে আমরা সেই জন্য স্বাধীনতা চাইনি। তৃণমূলে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি রোধের ব্যবস্থা চালুর ধারা স্থাপন করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসহ যে কোনো ধরনের ক্ষমতা আল্লাহ দেন আবার কেড়েও নেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার যারা অপব্যবহার করেন এবং যারা অন্যের রিজিক ছিনিয়ে নেন তারা টিকতে পারেন না। মাহে রমজান হচ্ছে সংযমের মাস, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পছন্দ করেন। সংযম, সহিঞ্চুতা ও ধৈর্যশীলতা বজায় রেখে আমাদের জীবন-যাপন করা উচিত।
মঙ্গলবার পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার জোলাগাতি মুসলিম আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি-জেপি আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, আজকে দেশে লক্ষ্য করা যায় এক পক্ষ আরেক পক্ষকে নির্মূল তথা সমূলে উচ্ছেদ করার অপপ্রয়াসে ব্যস্ত। তাদের মধ্যে পরমত সহিঞ্চুতা নেই। তৃণমূল থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যারা আছেন তারা এক দল করেন, একই ভাষায় কথা বলেন আবার পরস্পরকে মারতে চান। এই মারমুখী ভাবকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত তথা সকলের বিনয়ী হওয়া উচিত, ভাল ব্যবহার করা উচিত। দায়িত্বশীল ও ক্ষমতাবানদের মধ্যে বেশি বেশি সংযমবোধ থাকা প্রয়োজন। এটি আমাদের ধর্মের শিক্ষা হলেও এর অভাব রয়েছে সর্বত্র। আমরা কথায় কথায় উত্তেজিত হই। ধর্মে আছে ঝগড়া-বিবাদ করা যাবে না। পবিত্র কোরআন শরীফ হচ্ছে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি বিষয়ের নিয়ন্ত্রণের নির্দেশিকা। কোরআনে যথাযথ ভাবে নামাজ পড়ার নির্দেশ রয়েছে। রসুলে করিম (সাঃ) যেভাবে নামাজ পড়তেন তাই হচ্ছে যথাযথভাবে নামাজের দৃষ্টান্ত। মনে রাখতে হবে কোরআন শরীফ আমাদের জীবন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, এ দেশ আরো উন্নত হবে, এ দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থার আরো পরিবর্তন হবে। এর জন্য তৃণমূলের রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সকল কাজে জনগণকে জবাবদিহিতা চাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রতিটি কাজ সকলের তদারকি করা উচিত। আমি ৩৪ বছর ধরে এলাকায় বলে এসেছি ঝগড়া-বিবাদ পরিহার করে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সামনে নির্বাচন আসছে, ধৈর্যের সাথে, সহিঞ্চুতার সাথে ভোটের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য সবার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। ভোটের পূর্বাপর সকল ধরনের পরিস্থিতি যাতে শান্তিপূর্ণ থাকে সেদিকে সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকতে হবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, আমরা কাউখালী উপজেলাকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে চাই। স্থানীয় জনগণ ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় উপজেলা সদরকে সুন্দর করতে চাই।
ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রমজান আলী, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, জেপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক ও যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, কাউখালী উপজেলা জেপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নসু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজি মাসুদ ইকবাল, শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন সিকদার, সয়না-রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিয়া মনু, শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন জেপির সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা, উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি জিয়াউল আহসান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান মনু, উপজেলা যুব লীগের আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান হালিম প্রমুখ। এ ছাড়া জোলাগাতি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহিম, শিয়ালকাঠি দারুস সুন্নাত সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা কৃষক পার্টির সভাপতি মো. হারুন অর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার প্রমুখ ইফতারে অংশ নেন। মাওলানা মো. নূরুল আমীন দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
দুপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কাউখালী সদর ইউনিয়নে গোসনতারা মেজর নজরুলের বাড়ি থেকে জয়কুল আরএইচডি সড়ক পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ এবং বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে আমড়াজুড়ি ইউনিয়নে কাউখালী-স্বরূপকাঠি আরএইচডি ফেরিঘাট থেকে জুলুহার জিসি ভায়া মাগুরা বোর্ড জিপিএস সড়কের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মন্ত্রী দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। বিকালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ অফিস আরএইচডি সড়ক থেকে পাঙ্গাশিয়া জিসি (ফুটওভার ব্রিজ) পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এর আগে কাউখালী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে ক্ষুদ্র চাষিদের কৃষি সহায়ক প্রকল্পের আওতায় প্রাপ্ত পাওয়ার টিলারের চাবি উপজেলার কৃষকদের মাঝে পানিসম্পদ মন্ত্রী হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাউখালীর ইউএনও ইসরাত জাহান, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সুশান্ত কুমার রায়, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মিঠু, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিল্টন, উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার রায় ও এস এম জাফরুল্লাহ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরীফ প্রমুখ।
জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র উপস্থিতিতে কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দুস্থ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত অসচ্ছল পরিবারের মাঝে কাপড় বিতরণ করা হয়। আমড়াজুড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের এবং কাউখালী ইউনিয়নের কাপড় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিতরণ করেন জেপি সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নসু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম তালুকদার, আমড়াজুড়ি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস প্রমুখ।
চিড়াপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের এ কাপড় বিতরণ করা হয় ফরাজীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিয়ালকাঠি ইউনিয়নে কাপড় বিতরণ করা হয় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন প্রাঙ্গণে। এসব বিতরণ কাজে অংশ নেন চিড়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ খান খোকন, শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন সিকদার প্রমুখ।
ইত্তেফাক/রেজা
