রংপুর নগরীর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিজার করা এক রোগীর অশ্লীল ছবি ধারণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একজনকে আটক করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। যৌন নিপীড়ন ও পর্নোগ্রাফি আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রংপুর কোতোয়ালী থানার দায়েরকৃত এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার পূর্বশিমুলবাড়ী মীরগঞ্জ এলাকার এক গৃহবধূ অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য গত ১৫ মে রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় নর্থ স্টার হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ২২ মে আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে গৃহবধূর ক্ষতস্থান ড্রেসিং করার উদ্দেশ্যে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অতিবাহিত করে রোগীটিকে রুমে নিয়ে আসেন।
এ সময় গৃহবধূ তার স্বামী এবং মাকে জানান যে, ওই ক্লিনিকের এক কর্মচারী অন্যান্য নার্সদের সহযোগিতায় তার নিজ ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে আমার পরনের কাপড় খুলে ছবি তুলেছেন এবং হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন ঘটিয়েছেন। স্ত্রীর মুখে এ কথা শুনে ওই ক্লিনিকের কর্মচারী আমিনুল ইসলামের (২২) কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্লিনিকের ম্যানেজার, নার্স ও মালিক পক্ষের লোকজনসহ অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১২ জন এসে উল্টাপাল্টা কথা বলে আমাদেরকে ধাক্কাধাক্কি করে ক্লিনিক থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন।
পরে বিষয়টি স্থানীয় জনসাধারণকে জানিয়ে তাদের সহযোগিতায় রংপুর কোতোয়ালী থানায় জানালে থানা পুলিশ রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়িরহাট কদমতলার বাসিন্দা শাহজাহান এর ছেলে আমিনুল ইসলামকে আটক করেন এবং রোগীর স্বামী লিটন মিয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বাদী করে আমিনুরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
রংপুর কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) মোখতারুল আলম ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন, নর্থ স্টার ক্লিনিকের অভিযুক্ত কর্মচারী আমিনুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলাও হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত বাকি সকলকে আসামিদের আট করে আইনের আওতায় নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসএস
